নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের ধর্মঘট অব্যাহত অচল মংলা বন্দর ॥ দেশের ৫ হাজার কার্গো-কোস্টার জাহাজ চলাচল বন্ধ!
রোমান শেখ, বাগেরহাট প্রতিনিধি : নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের ডাকা ৩ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তাদের ডাকা ধর্মঘট বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার থেকে শ্রমিকদের ডাকা এ ধর্মঘট তৃতীয় দিনে বৃহস্পবিবার পর্যন্ত গড়িয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে ভারতমুখী কার্গো-কোস্টার জাহাজ চলাচল ও কর্যক্রম ৩ দিন ধরে সমপূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। উভয় পক্ষের কোনো পক্ষই নমনীয় না হওয়া এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করায় কবে নাগাদ ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। মালিক পক্ষের বৃদ্ধিকৃত বিলম্ব ভাড়া কার্যকর ও শ্রমিকদের খাদ্য ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে মালিক ও শ্রমিকরা যৌথভাবে অর্নিষ্টকালের জন্য এ ধর্মঘট শুরু করে। ধর্মঘটের ফলে সারা দেশের প্রায় ৫ হাজার নৌযানের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে জানা যায় বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন সূত্রে। এর মধ্যে রয়েছে মংলা বন্দরের প্রায় ২ শতাধিক নৌযান। নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের ডাকা এ ধর্মঘট এভাবে চলতে থাকলে দেশের বৃহত্তর চট্টগাম ও মংলা বন্দরের অর্থনৈতিক চাকা খুব শীঘ্রই অচল হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ঠরা।
বাংলাদেশ কার্গো ভ্যাসেল ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন ও নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ-ভারত নৌ -প্রটোকলে ভারত থেকে মংলা বন্দর হয়ে বিভিন্ন কার্গো ও কোষ্টার জাহাজ সিমেন্ট তৈরীর কাঁচামাল ক্লিংকার, ফ্লাইএ্যাশসহ নানা পণ্য পরিবহণ করে থাকে। এসব পণ্য বোঝাই করে আনার পর তা বিভিন্ন ফ্যাক্টরী ঘাটে খালাস করতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশী সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়। এ কারণে নির্ধারিত দিনের পর অতিরিক্ত সময়ে অবস্থান করার জন্য ফ্যাক্টরী কর্তৃপক্ষ নৌযান মালিকদের বিলম্ব ভাড়া বৃদ্ধির চুক্তি করলেও তা দীর্ঘদির ধরে বাস্তবায়ন করছে না। এছাড়া ভারতে অবস্থানকালে নৌযান শ্রমিকদের মালিক পক্ষ থেকে যে খাদ্য ভাতা (ফুড এলাউন্স) প্রদাণ করা হয় তা খুবই কম। বাংলাদেশি নৌযান পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য ভারতে গেলে তাদের খাবার কেনার জন্য স্থলে নামাতে ভারত সরকার কোনো অনুমতি দেয় না। বাংলাদেশীদের এসব প্রয়োজনীয় খাবার কেনার জন্য ভারতীয় নাগরিকদের দিয়ে কেনাকাটা করতে হয়। এই সুযোগে ভারতীয় নাগরিকরা ইচ্ছেমতো বেশি মূল্য ধরে পণ্য বিক্রি করে থাকে। এ ক্ষেত্রে ভারতে থাকলে নৌযান শ্রমিকদের প্রতিদিন খাওয়ার জন্য বর্তমানে ভাতা দেওয়া হচ্ছে ৪৫ টাকা। বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী শ্রমিকরা ১০০ টাকা দাবি জানিয়েছে। শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে এ ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসলেও মালিক পক্ষ তা মানছে না এবং শ্রমিকদের ডাকা এ তৃতীয় দিনের ধর্মঘটে উভয় পক্ষেরই যাচ্ছে না কেউ কোনো সিদ্ধান্তে । ফলে বৃদ্ধি করা বিলম্ব ভাড়া কার্যকর ফুড এলাউন্সসহ তাদের এ ৩ দফা দাবীতে দেশের মংলা বন্দরসহ প্রায় ৫ হাজার নৌযানের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।











