স্বাতী আপার চাকরি হলো
এলিফ্যান্ডরোডের আশি বাই এ সন্ধ্যা সাতটার কিছু আগে; হয়তো পরে
মনে নেই ঠিক
কবি বাড়ি আছেন দোতলাতে অগোছালো বইপত্র কাগজকিছু এদিক ওদিক
ক্লান্ত বড়ো; দুটো বিয়ের কম ঝক্কি নয়; এখন হয়তো টের পেয়েছেন
বড়ো মেয়ে মেয়ে নিয়ে বাপের বাড়ি; ডিভোর্স নাকি হয়েছে তার
ছেলে না-কি ভালোই ছিলো কবির কথা; আমরা এসব জানবো কিসে!
ছোট মেয়ে [স্বাতী আপা] করেছে ভুল; কবির কথা
হিন্দু ছেলে নাটক লেখে কোমলকান্তি শ্যামলের ঘরে ঠাঁই নিয়েছে
ছেলে আছে বাড়ির কিছু ভাড়া আছে সবজি আছে শাড়ি-চুড়ির স্বপ্ন আছে
চাকরিতো চাই!
ভোরের কাগজ শ্যামল দাদা [দত্ত কিন্তু নয় ভাদুরি সে]
বেতন পান না শান্তি পান না; মাঝে মাঝে নাটক আসে মাথায় কিছু গল্প আসে স্বপ্ন আসে।
কবি বলেন : তোমরা আছো ছাত্র আমার, রোমজান আছে তুমি আছো দেখোতো স্বাতীর জন্য করতো পারো কী- কিছু একটা
সোমা না-কি পড়বে আবার মেয়ের জন্য ভাবনা বড়ো
হাজার হোক সে বড়ো মেয়ে
তোমরা এবার দেখো বাবা!
হাতে কিছু টাকা হবে? : কবি বলেন কাঁচাবাজার করা হয়নি দুদিন হলো; ক্লাসবিলের খবর জানো? লজ্জা লাগে : কবি বলেন, দেখো বাবা কী করা যায়! কবি আতা জয়পুরহাটের; জয় হলো না জীবনে তার
চাকরি বলো সংসার বলো হলো তার সব- একাধিকও;
শান্তি কোথায়! কদিন পরে
স্বাতী আপা কাঁদতে থাকেন- বারান্দাতে; ডোবার ওপর কলেজ না-কি : কাজীর কথা
স্বাতী আপা কাঁদতে থাকেন চুক্তিভিত্তিক চাকরিটা শেষ; কাল থেকে তাঁর আসতে মানা- এটা না-কি কাজীর কথা [প্রিন্সিপাল সে] স্বাতীর হাতে ব্যাগের হাতল; ভ্যানিটি ব্যাগ বাড়িয়ে ধরি টিস্যুপেপার; স্বাতী আপা চোখটি মোছেন রোমজান আছেন, ঊষা আছেন, মিঞা আছেন আল্লা আছেন আপনি আছেন আমরা আছি; হয়তো হবে দেখা যাক না আর খানিকটা হতাশা সব ঝেড়ে ফেলেন
কে বলে শেষ; দেখা যাক না কী হয় এবার চলেন দেখি।স্বাতী আপা চাকরি পেলেন পুরো চাকরি পুরো বেতন; গাড়ি হলো শাড়ি হলো সায়মার সাথে শামার সাথে ববির সাখে খাতির হলো
পরে শুনছি আতিকতো নেই! ধাপ্পাবাজি কমলো না-কি!]
গলা খানিক শক্ত হলো
বেয়াদবির সাহস হলো
বাড়ি বাড়ি খেয়ে বেড়ান বেড়িয়ে বেড়ান; চেনেন নাকো
রুশমি কিংবা প্রমার বাড়ি
চোখের সামনে অনিরুদ্ধ আমরা কিন্তু চিনতে পারি
স্বাতী আপার চোখ পড়ে না; স্বাতি আপার চাকরি হলো
কবি আতা বিদেয় হলেন; সঙ্গে নিলেন স্বাতির বিবেক
স্বাতি এখন বিবেক ছেড়ে বেবাক ভুলে বাবার নামে চরকা কাটেন
জাবর কাটেন আমরা কাটি স্মৃতির বহর; মানবগতির-নারীরগতির আটটি প্রহর! স্বাতী আপার চাকরি হলো ভালো হলো ঊষা গেলো শশী এলো দিনতো কিছু এগিয়ে গেলো হয়তো কিছু ভালো হলো!
লেখক : ড. ফজলুল হক সৈকত
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এবং প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ; রেডিও সংবাদপাঠক; কলামলেখক ও সাহিত্যিক।











