মাটি ও মানুষের কবি কুমিল্লার আশরাফ
কুমিল্লার অহংকার দাউদকান্দির গৌরব কবি, কলামিস্ট ও বিশিষ্ট সংগঠক মোঃ আলী আশরাফ খান ২৮ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা শাহবাগস্থ কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরীর শওকত ওসমান মিলনায়তনে “কবি সংসদ বাংলাদেশে”র উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত প্রায় ৬ শত কবির উপস্থিতিতে জাতীয় কবি সম্মেলন-’১১ অনুষ্ঠানে আলী আশরাফ খানের নান্দনিক কাব্যচর্চার জন্য কবি শামসুর রহমান সাহিত্য পুরস্কার-’১১ প্রদান করা হয়। এ পুরস্কার তুলে দেন, কবি মহাদেব সাহা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কবি আবুবকর সিদ্দিক, ছড়াকার রফিকুল হক দাদাভাই, কবি শিহাব সরকার, কবি মোনায়েম হোসেন, ভারতের মর্ডান অব টাইমস পত্রিকার সম্পাদক মোঃ শাকিল হোসেন, কবি লিলি হক, কবি বেগম শামসুয জাহান নূর, কবি আয়েত আলী পাটোয়ারী, লায়ন গনি মিয়া বাবুল, কবি টিমুনী খান রিনো, কবি তৌহিদুল ইসলাম কনক প্রমুখ। উল্লেখ্য কবি আলী আশরাফ খান সামজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কলাম লিখে ইতোপূর্বে বিশটিরও বেশি জাতীয় মানের পুরস্কার অর্জণ করেন।ছোটকালে ডাঃ লুৎফর রহমানের বই পড়তেন। পাশাপাশি নজরুল, রবীন্দ্র ও ডেলকার্নিগীর লেখা বইও। তবে ডাঃ লুৎফর রহমানের লেখাগুলো তাকে বেশি প্রেরণা দিত। মূলতঃ তিনিই তার গুরু বা আদর্শ। লিখালেখির ক্ষেত্রে শত বাঁধাকেও বাঁধা মনে হয় না এক্ষেত্রে ইচ্ছাশক্তিটাই এখানে আসল।
কবি আলী আশরাফ ১৯ জুলাই, ১৯৬৮ কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার আমিরাবাদ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম মোঃ হোসেন আলী খান মাতার নাম মোসাম্মৎ আম্বিয়া খাতুন। তিনি মাদ্রাসা থেকে ফাজিল (বিএ) পাশ করেন। তিনি বাংলার উপরে ঢা.বি.এর টি.এস.সি.র স্বরকল্পন থেকে তিন মাসের স্বল্প মেয়াদী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেনন।।তার শিক্ষা গুরু বাবু ক্ষিতিশ চন্দ কে তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেন।
ধর্মীয় বিষয়, যৌতুক, বাল্যবিবাহ,ইভটিজিং-যৌনসন্ত্রাস, পরকীয়া, মাদক, শিক্ষা, পর্যটন-পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও তরুণদের স্বপ্ন-উৎসাহ প্রদানসহ যাবতীয় সামাজিক অবক্ষয় রোধকল্পে তিনি কলম সৈনিক হিসেবে কাজ করেন। সামাজিক জীব হিসেবে দায়িত্ব ও কর্তব্যের খাতিরে এবং সমাজকে কিছু দেয়াই তার লেখার উদ্দেশ্য। তিনি কারও প্রশংসা পাওয়ার জন্য লিখেন না।তার প্রথম কবিতা ছাপা হয় ২০০০ সালে ঢা.বি-এর কন্ঠস্বর পত্রিকায় এবং বই সংক্রান্ত একটি লেখা ছাপা হয় দৈনিক আজকের কাগজ পত্রিকায়। কাবতাটি ছাপা হওয়ায় খুব ভালো লেগেছিল যেমন নতুন সন্তানের জনক হওয়ার মতো। লিখার ক্ষেত্রে ব্যাবসায়িক মনোভাব থাকলে দোষের তেমন কিছু নেই। তবে নিজেকে কেমন যেন অসহায় মনে হয়। প্রেমের ব্যাপারে তিনি বলেন-প্রেম অতি পবিত্র একটি বিষয়। প্রেম সকল মানুষের সঙ্গেই মানুষের হয় এবং হওয়া উচিৎ। যা স্রষ্টার নৈকট্য লাভের সিঁড়ি বলে আমি মনে করি।কবিতা, ছড়া, অনুউপন্যাস, গল্প-অনুগল্প, নিবন্ধ, প্রবন্ধ, বিষয়ভিত্তিক কলাম ও প্রতিবেদন মিলে অনেক লিখা তিনি লিখেছেন।
স্মরণীয় লিখা কোনটি ? জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন-এ যাবৎ অসংখ্য লেখা লিখেছি। সব লেখাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে মনে রাখার মতো কোনো লেখা এ পর্যন্ত লিখতে পেরেছি বলে মনে হয় না। মানুষ সব সময়ই অনুসন্ধানে উৎসাহী। তাছাড়া বলার ক্ষেত্রে তো আরো বেশি বেশি। মানুষের বলার বা শোনার শেষ নেই। তার মতে নতুনদেও সুযোগ দেয়া উচিত নতুনরা সুযোগ পেলে আমাদের চেয়ে ভালো করবে। নতুনদের মেধা ও চিন্তাশক্তি আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। তাদেরকে অনুপ্রেরণা ও সুযোগ করে দেওয়া আমাদেরই দায়িত্ব ও কর্তব্যর একটি অংশ। কারণ সমাজ বিনির্মাণে তরুণরাই সব সময় অগ্রণী ভূমিকা রাখে। এ ক্ষেত্রে তরুণদের সুযোগ দিলে সামগ্রীকভাবে সমাজ দ্রুত উন্নতির দিকে অগ্রসর হবে-তা আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি।
লেখক :মমিনুল ইসলাম মোল্লা , প্রভাষক ও সাংবাদিক , কুমিল্লা











