‘গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্থানীয়করণ’ জরুরী
মোহাম্মদ আশিকুর রহমান আশিক : ‘গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্থানীয়করণ’ নীতি ও শ্লোগান একটি বহুমাত্রিক বিষয়। এই বিষয়টি ১৯৯৭ সালের ১৩ জানুয়ারী ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক জাতীয় সেমিনারে ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’য় উপস্থাপিত করেন গণতন্ত্রায়ন ও স্থানীয় সরকার গরেষক আবু তালেব এবং তার পক্ষে জনমত তৈরীতে লাগাতার ক্যাম্পেইন করে আসছে সিডিএলজি। তা সত্ত্বেও আনেকেই তখন তো বটেই এখনো এর মর্মার্থ, প্রয়োজনীয়তা ও তাৎপর্য বুঝে উঠতে পারছেন না। এটা আমাদের জাতিগত দুর্ভাগ্য। আমরা জাতিগতভাবে আসল ও সুদূরপ্রসারী বিষয় বুঝতে অনেক বেশী সময় নিয়ে থাকি। এর অনেক উদাহরণ দিলে দেয়া সম্ভব, তবে যাদের এতে একটুও সন্দেহ আছে, তারা নিজেরা একটু কষ্ট করে এর সত্যতার পক্ষে উদাহরণ সন্ধান করলেই পেয়ে যাবেন।গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্থানীয়করণের অনেক বিষয়ের মধ্যে একটি বিষয় হচ্ছে, জাতীয় সংসদের নির্বাচনের মত স্থানীয় নির্বাচনও দলীয় ও নির্দলীয় প্রার্থীর সমন্বয়ে সম্পন্ন করা। এই পদ্ধতিটি না থাকায় প্রতি মুহূর্তে হাজারো মিথ্যাচার আর প্রচলিত আইন ও বিধি ভঙ্গ করে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। যারা আইনের দোহাই দিয়ে জাতিকে উদ্ধার করতে সদায় তৎপর বলে মনে হয়, তাদের প্রতিনিয়িত আইন ও বিধি ভঙ্গের নজির গোটা জাতির কপালে কলংকের তিলক লাগিয়ে চলছে। প্রশ্ন হচ্ছে, তার পরও গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্থানীয়করণের নীতি ও শ্লোগান গ্রহণ ও বাস্তবায়নে আইনী ও বিধিগত পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে না কেন? এই প্রশ্নের পুনঃপুন উচ্চারণ তাদের কানে প্রবেশ করছে বলে মনে হয় না। তবে আর কোনও বিলম্ব না করে গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্থানীয়করণ নীতি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে তা সামগ্রিকভাবে বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নিতে হবে। তা করা হলে এক্ষেত্রে স্থানীয় নির্বাচনে আইন ও বিধি ভঙ্গের মহড়া তিরোহিত হয়ে যাবে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্থানীয়করণের অন্যসব বিষয় বাস্তবায়নের উদ্যোগও দ্রুতগতিতে নিতে হবে।
বাপসনিউজ











