সাতকানিয়ায় ভুয়া দলিল নিয়ে জায়গা দখলের চেষ্টা, মামলার বাদী ও স্বাক্ষীকে প্রাণনাশের হুমকি
সাতকানিয়ার পশ্চিম ঢেমশায় ভুয়া দলিল সৃষ্টি করে অসহায় মহিলার ভিটেমাটিসহ জায়গা-জমি দখলচেষ্টার বিরুদ্ধে আদালতে দায়েরকৃত মামলার বাদী ও স্বাক্ষীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে সাতকানিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, উত্তর রামপুর মনিয়ার পাড়ার নুরুজ্জমার পুত্র সাচি মিয়া ১৯৮০সালে তার স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন ও কন্যা নুর বানুকে ২কানি ৪ গন্ডা জমি রেজিস্ট্রিকৃত দলিল মূলে দান করে দেন। এই দানপত্র সম্পাদনের সাতদিনের মাথায় একই এলাকার মৃত আনু মিয়ার পুত্র দফাদার নুরুল ইসলাম ও জিয়াবুল হক চরম জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে অতি গোপনে ভিন্ন মহিলাকে আম্বিয়া খাতুন ও নুর বানু সাজিয়ে ঐ সকল জমি তাদেরকে (নুরুল ইসলাম ও জিয়াবুল হককে) বিক্রি করা হয়েছে মর্মে ভুয়া কবলা দলিল সৃষ্টি করে। এ ঘটনার ৩১ বছর পর জালিয়াত চক্রের হোতা দফাদার নুরুল ইসলাম ও তার ভাই জিয়াবুল হক উক্ত জায়গা-জমি জবরদখল করতে উদ্যত হলে জাল দলিল সৃজনের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। এই জালিয়াতির প্রতিকার চেয়ে সমুদয় জায়গার বর্তমান জীবিত মালিক নুর বানু বিগত জানুয়ারিতে সাতকানিয়া যুগ্ম জেলা জজ আদালতে কবলা নামক দলিল ‘ফেরবী, বানোয়াটি, জাল-জালিয়তী, পণশুন্য, অকার্যকরী সাব্যস্তে’ বাতিল করার আবেদন জানিয়ে মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও উক্ত জাল দলিল সৃজনে জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করার অভিযোগে উক্ত জিয়াবুল হক ও নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্যাটের আদালতে একই এলাকার মৃত এজহার মিয়ার পুত্র হারুনুর রশিদ ফৌজদারী অভিযোগ দায়ের করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে জালিয়াতচক্রের হোতা দফাদার নুরুল ইসলাম এখন সন্ত্রাসী কায়দায় মামলার বাদী ও স্বাক্ষীদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলে জানা গেছে। সে মাদার্শা ইউনিয়নের দফাদার হওয়ার সুবাদে থানা পুলিশের সাথে কথিত দহরম-মহরম সম্পর্ক থাকার দোহাই দিয়ে বিভিন্ন পেন্ডিং মামলায় ঝুলিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে মামলার বাদী ও স্বাক্ষীদের হুমকি ধমকি দিচ্ছে বলে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। নুর বানু কতৃক থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে জানা যায়, তার মামলার স্বাক্ষী, একই এলাকার মৃত আব্দুচ ছমদের পুত্র ইয়াকুব মিয়া (৫২) কে দফাদার নুরুল ইসলাম ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে স্থানীয় ওচমানের দোকানের সামনে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে জানায়, সে মামলায় স্বাক্ষী দিতে গেলে তাকে বিভিন্ন মামলায় জড়ানোসহ প্রাণে হত্যা করা হবে। স্বাক্ষী ইয়াকুব হুমকি পাওয়ার কথা এই প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেছেন। বাদী নুর বানু এবং তার মামলার স্বাক্ষীরা এ ঘটনায় চরমভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ প্রাপ্তির কথা সাতকানিয়া থানার উপ-সহকারি দারোগা মোহাম্মদ মুরাদ হোসেন স্বীকার করেছেন।
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন, সাতকানিয়া চট্টগ্রাম থেকে ।











