তালায় বর্ষণে প্লাবিত ৪৭ গ্রামে দুর্ভোগ : লক্ষাধীক মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত
কপোতাক্ষের উপচে পড়া পানিতে ও গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ প্লাবিত সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নিম্ন ঞ্চলের ৪৭ গ্রামের প্রায় ১৪ হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। যার কারণে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। দীর্ঘ দু’সপ্তাহ যাবত ধীরে ধীরে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার শতাধীক গ্রামের মানুষ এখন বন্যা আতংকে দিনাতিপাত করছে। অনেকেই বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিচ্ছে পার্শ্ববর্তী স্কুল ও রাস্তার উপর। এদিকে উপজেলা পরিষদ চত্বর সহ একাধীক সরকারী অফিসে পানি প্রবেশ করায় সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও পানি নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্টরা।
উপজোর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সম্প্রতি কয়েকদিনের অবিরাম বৃষ্টি ও কপোতাক্ষের উপচে পড়া পানিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তালা উপজেলার লক্ষাধীক মানুষের জনজীবন। উপজেলার মাদরা,বিষুকাটি,কেশা, মাহমুদপুর,মৃর্জাপুর,নওয়াপাড়া,কলাপাতা,ধলবাড়িয়া,দেওয়ানীপাড়া,মালোপাড়া,মহল্লাপাড়া,খানপুর,কিসমতঘোনা,খড়েরডাঙ্গা,ঘোনা,গোপালপুর,খরাইল,ভবানীপুর,কাজিডাঙ্গা,নারানপুর,বারাত,কানাইদিয়া,কৃষ্ণকাটি,ঘোষনগর,গঙ্গারামপুর,রাজনগরচক,গাছা,খড়িয়াডাঙ্গা,কৈখালি, হরিণখোলা, ভৈরবনগর, সোনাবাঁধাল, রাজাপুর, কাপাসডাঙ্গা, গোয়ালপোতা, মেছেরডাঙ্গা,কাশীপুর, পুটিয়াখালী, সহ ৪৭ টি গ্রাম ও কয়েকটি বিল পানিতে ডুবে একাকার হয়ে গেছে। প্রায় কোটি টাকার ফসল ও চিংড়ী ঘেরের ক্ষতি হয়েছে। ধীরে ধীরে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার শতাধীক গ্রামের মানুষ এখন বন্যা আতংকে দিনাতিপাত করছে। ইতিমধ্যে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত শতাধীক পরিবার পারকুমিরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বড়কাশিপুর রাস্তার উপর আশ্রয় নিয়েছে ।
পারকুমিরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আশ্রিত শহীদ শেখ, আমছার আলী, রাশিদা, জোহরা,মাহফুজা,নুরজাহান সহ অনেকের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় মাছ শিকারীরা নদীতে আড়াআড়ি বাঁধ ও পাটা দিয়ে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে ভাটির দিকে পানি সরতে না পেরে নদী সংলগ্ন গ্রামসহ নিচু এলাকায় প্রবেশ করে ঘরবাড়ি সহ ফসলের ক্ষেত সয়লাব হয়ে গেছে। এখানে আমরা অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছি। কোন ধরনের সাহায্য ভাগ্যে জোটেনি।
তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার জানান, বেতনা নদীর নেহালপুর ও পুটিমারী গেটের মুখে পলি জমে থাকার কারণে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে আছে। এতে তালা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে এ সকল গেট সমুহে পলি অপসারণ করলে পানি চলাচলে কিছুটা গতি বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা করেন।
তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, টানা ভারী বর্ষণে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নেট-পাটা ও অবৈধ বাঁধের কারণে অনেক স্থানে পানি আটকে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সকল অবৈধ বাঁধ ও নেট-পাটা অপসারণ করে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চলছে।
সেলিম হায়দার,তালা, সাতক্ষীরা থেকে ।













