,

নওগাঁর রাণীনগর ও আত্রাইয়ে কৃষকরা মাদুর তৈরির উপকরণ পাতি চাষে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে

নওগাঁর রাণীনগর ও আত্রাইয়ে কৃষকরা মাদুর তৈরির উপকরণ পাতি চাষে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেনওগাঁর রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলায় মাদুর শিল্পের কাঁচামাল পাতি চাষ করে বহু পরিবার স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। ঘরে ঘরে মাদুর তৈরির কুঠির শিল্প গড়ে উঠেছে এ এলাকায়। তাই মাদুর তৈরি উপকরণ পাতির চাহিদাও অনেক। এ জন্য পাতি চাষে আগ্রহ হয়ে উঠেছে এ এলাকার মানুষ। জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলার বাহাদুরপুর, ত্রিমোহনী, হরিশপুর, করজগ্রাম, নওগাঁ সদর উপজেলার চন্ডিপুর, শিমুলিয়া, আনন্দবাজার, মাদারমোল্লা এবং আত্রাই উপজেলার নন্দনালী, আহসানগঞ্জ, কুশাতলা, শুটকিগাছাসহ প্রায় ৫০টি গ্রামের কৃষকরা পাতি চাষ করছেন। এসব এলাকার মানুষ সাধারণতঃ দুই ধরনের পাতি চাষ করে থাকেন। বনপাতি ও পানিপাতি।
 রাণীনগর উপজেলার দরিয়াপুর গ্রামের প্রবীন ব্যক্তি আসকর আলী (৯০) জানান, এ এলাকায় বনপাতির চাষ শুরু হয়েছে প্রায় ২০ বছর আগে। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই সাধারণতঃ অগ্রহায়ন-পৌষ মাসে কৃষকরা তাদের  জমিতে পাতির চারা রোপন শুরু করেন। কোন জমিতে একবার পাতির চারা রোপন করলে পরপর ৫ বছর সে জমি থেকে পাতি উৎপাদিত হয়। এক বিঘা জমি থেকে প্রতি বছর ৭০ থেকে ৮০ আঁটি পাতি উৎপাদিত হয়। বাজারে প্রতি আঁটি পাতি বিক্রি হয় ৮শ’ টাকা করে। সে হিসাবে প্রতি বছর এক বিঘা জমি থেকে পাতির বিক্রি মূল্য আসে কমপক্ষে ৬৪ থেকে ৭০ হাজার টাকা।  আর প্রতি বিঘায় খরচ হয় ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা। সে হিসাবে পাতি চাষ অনেক লাভজনক। পাতিগুলো জমি থেকে কাটার পর কয়েক দিন রোদে শুকিয়ে উপযোগী করে বিশেষ তাঁতের সাহায্যে তৈরি করা হয় মাদুর(শপ)। এলাকার শ’ শ’ পরিবারের পুরুষদের পাশাপাশি মেয়েরা মাদুর(শপ) তৈরির সাথে জড়িত। তাঁদের তৈরির মাদুর(শপ) দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
   তৈরির সাথে জড়িত। তাঁদের তৈরি মাদুর(শপ) দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে। রাণীনগর উপজেলার করজগ্রামের গ্রামের রশিদা বেগমও মনিতা জানান, তাঁদের সংসারে অন্যান্য কাজের পাশাপাশি মাদুর তৈরি কাজে ব্যস্ত থাকেন। তাঁদের উৎপাদিত পাতি দিয়ে নিজেরা মাদুর(শপ) তৈরি করেন, আবার অতিরিক্ত পাতি মাদুর(শপ) তৈরির উপযোগী করে বাজারে বিক্রি করেন। মাদুর(শপ) ও পাতি বিক্রির জন্য বিখ্যাত হাট রাণীনগর উপজেলার ত্রিমোহনী। প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার ভোর থেকে চলে এ হাটের বেচাকেনা। এছাড়াও প্রতিদিন নওগাঁ সদর উপজেলার শিমুলিয়ার আনন্দবাজার ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার হেলালিয়া হাটে বেচাকেনা হয় মাদুর(শপ) ও পাতি। চৈত্র থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত পাতির দাম কম থাকে। এ সময় পাতির কোন সংকট থাকেনা। লাভও বেশি হয়। এখন পাতির দাম বেশি এবং পাতি ঠিক মতো পাওয়া যায়না। লাভও কম। প্রতি আঁটি পাতি থেকে কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫টি বড় আকারের মাদুর তৈরি করা যায়। ছোট আকারের মাদুর(শপ) ৮০ টাকা এবং বড় আকারের মাদুর ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে। একটি পারবার প্রতিদিন কমপক্ষে ৪টি মাদুর তৈরি করে থাকেন। সে হিসাবে ১ আঁটি পাতির দাম ৮০০টাকা বাদ দিয়ে লাভ করে থাকেন ১৬০০থেকে ২২০০ টাকা পর্যন্ত। এএলাকার তৈরিকৃত মাদুর(শপ) রাজধানী ঢাকাসহ খুলনা, যশোহর, চুয়াডাঙ্গা,ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে নওগাঁর স্থানীয় বাজার থেকে কিনে নিয়ে যায়। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব মাদুর সরবরাহ করে থাকেন। রাণীনগর উপজেলার করজগ্রাম এলাকার পাতি চাষী ও মাদুর কারিগর রমজান, ছাত্তার,ভূষন, নিত্যানন্দ, বৈল্যগোপাল, অরুন চন্দ্র দেবনাথসহ অনেকে জানান, পাতি শুকানোর জন্য কৃষকদের কেবলমাত্র রোদের উপর নির্ভর করতে হয়। পাতি শুকানোর কোন কৃত্রিম উপায় এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে মাদুর বুনানোর ব্যবস্থা করতে পারলে এই এলাকার মাদুর শিল্পীরা আরও অধিকহারে মাদুর তৈরি করতে পারবেন। উন্নত মাদুর তৈরি করতে পারলে বিদেশে রফতানী করতে পারবে বলে তাদেও ধারণা। নওগাঁ’র কৃষি সম্পসারন অধিদপ্তর উপ-পরিচালক এসএম নুরুজ্জামান মন্ডল জানান, এ বছর জেলায় প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে পাতির চাষ করা হয়েছে। যা গত বারের চেয়ে প্রায় ৫০ হেক্টর বেশি। এ এলাকার কৃষকদের জন্য উন্নত জাতের পাতির বীজ, মাদুর তৈরির প্রমিক্ষণ ও কৃষি ঋনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর। তাই এককভাবে এসব সুবিধা দেয়া আমাদের জন্য বেশ দুরুহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে উন্নত জাতের বীজ সরবরাহের ব্যাপারে মোটামোটি একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে। খুব শিঘ্রই নওগাঁ এলাকার কৃষকরা উন্নত জাতের পাতির বীজ পাবে।                

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর(নওগাঁ) থেকে ।


(আপনার মোবাইল নম্বরটি অপ্রকাশিত থাকবে)


(আপনার ইমেইল এ্যাড্রেসটি গোপন রাখা হবে)


(বাংলায় মন্তব্য লিখতে ইউনিকোড বাংলা সফ্‌টওয়্যার ব্যবহার করুন)

পাতার শুরুতে