পতাকা বৈঠকে বিজিবির কাছে ক্ষমা চাইলেন বিএসএফ
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএস) সাথে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কুচবিহার জেলার চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর বিএসএফ ক্যাম্পে বিজিবি-বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে এ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের(বিজিবি) পক্ষে ১০ সদস্য প্রতিনিধি দলের নের্তৃত্ব দেন লালমনিরহাট-৩১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল খাঁন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর(বিএসএফ) পক্ষে ১৫ সদস্যে দলের নের্তৃত্ব দেন ভারতীয় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কুচবিহার-১০৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মি. কে গিরি। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট-৩১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর রহুল আমীন, বুড়িমারী কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার মেজর আল হেলাল প্রমূখ। এছাড়া ভারতের কুচবিহার-১০৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চ্যাংরাবান্ধা কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার মেজর বল বীর সিংহ।
লালমনিরহাট-৩১ বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কুচবিহার জেলার চ্যাংরাবান্ধা বিএসএফ ক্যাম্পে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারতীয় সীমান্ত বাহিনী বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী বাবুল হোসেনকে আটক করে বুকে গুলি চালিয়ে হত্যা করার ঘটনায় ব্যাটালিয়ন পর্যায়ের এ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে কুচবিহার-১০৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মি. কে গিরি লালমনিরহাট-৩১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্ণেল খাঁন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের কাছে বাংলাদেশি বাবুল হোসেনকে গুলি করে হত্যা করার কারণে ক্ষমা চান। ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনা যেন আর না ঘটে সে ব্যাপারেও বিজিবির কাছে বিএসএফ কমান্ডার প্রতিশ্র”তি দেন।
গত শনিবার(১- সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর সীমান্তের ৮৪৩ নম্বর মেইন পিলারের ৩/৪ নম্বর সাব পিলারের কাছে বিএসএফের টহল দল বাবুল হোসেনকে আটক করে বুকে গুলি করে হত্যা করে লাশ টেনে হিচড়ে নিয়ে যায়।
নিহত বাবুল হোসেন পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ডাঙারপাড়(গুচ্ছ) গ্রামের মৃত. জসি মুদ্দিনের ছেলে।
পতাকা বৈঠক শেষে লালমনিরহাট-৩১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল খাঁন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, ‘বিএসএফ বাংলাদেশি বাবুল হোসেনকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে আমাদের কাছে ক্ষমা চান। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ বিএসএফের জলপাইগুড়ি সেক্টর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল(অব:) গজিন্দর সিংহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ওই হত্যাকান্ডের ঘটনায় একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে পতাকা বৈঠকে জানিয়েছেন। রাবার বুলেট (পিএজি) অস্ত্র দিয়ে বাবুলকে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে তা তিনি তদন্ত কমিটির কাছে প্রতিবেদনে জানতে চেয়েছেন। এবং হত্যাকারী বিএসএফ জোয়ানের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলেও বৈঠকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’
এ.আর.লাডলা,লালমনিরহাট প্রতিনিধি ।











