,

পর্যটন শহর বান্দরবান পার্বত্য জেলা অসংখ্য পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত

বান্দরবানের নয়নাভিরাম পর্যটন কেন্দ্র নীলাচলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখছেন কিছু পর্যটক।ছবি -এম এ মালেক।পবিত্র ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটিতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার বিষ্ময় পর্যটন শহর পাহাড়ি কন্যা নামে খ্যাত বান্দরবান পার্বত্য জেলা হাজার হাজার পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। বান্দরবান সকল পর্যটন কেন্দ্র যেন ঈদের আমেজ বিরাজ করছে। সর্বত্রই মানুষে মানুষে ভরা। ঈদের পরের দিন থেকে এসব পর্যটক বান্দরবানে অবস্থান করছে। অনেকে আবার বান্দরবানের বড় ঈদ জামাতেই শরিক হয়ে ঈদ করেছে। এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোরদার করা হয়েছে প্রতিটি স্পটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক কে এম তারিকুল ইসলাম জানান, বিশ্বের অন্যান্য দেশের যে সব নামকরা পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে বান্দরবান তার চাইতে কম সুন্দর নয়। বান্দরবানে পর্যটনের অর্পার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও বিপূল পরিমাণ পর্যটকের সমাগম হয়েছে এবং হবে। পর্যটকরা যাতে কোন ধরনের হয়রানীর শিকার না হয় সে দিকে খেয়াল রাখছে প্রশাসন।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক সুব্রত বড়-য়া জানান, বিশ্বের অনেক নাম করা পর্যটন কেন্দ্রের চেয়ে বান্দরবানের নয়নাভিরাম দৃশ্য খুব বেশি আকৃষ্ট করে মানুষকে। এখানে চোখ ফেরালেই পর্যটনের সুন্দর সুন্দর, নজর কাড়া দৃশ্য দেখা যায়। মহান সৃষ্টিকর্তার নিপুণ শিল্পীর আঁকা ছবির মতোই মনে হয় পুরো বান্দরবানকে। পাহাড়ের উচুতে উঠলে পাশে নীলাকাশ আর নিচে সবুজের সমারোহ এ এক নান্দনিক সৌন্দর্য্য। তার মাঝে পাহাড়িদের ‘মাচাং ঘর’ এবং জুম ক্ষেত এ এক অপরূপ দৃশ্য। স্বচোখে না দেখলে বুঝানো যাবেনা এর সৌন্দয্য।
বান্দরবানে রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং (বিজয়), কিংবদন্তীর বগালেক, প্রাকৃতিক ঝরণা রিজুক, শৈলপ্রপাত, ‘বাংলার দার্জিলিং’ খ্যাত চিম্বুক, নীলাকাশ ছুঁয়ে যাওয়া নীলগিরি, নীলাচল, প্রান্তিক লেক, মিরিঞ্জা, উপ-বন, সবুজ আর স্বচ্ছ এবং জীববৈচিত্র্যেপূর্ণ মেঘলা, খরস্রোতা সাঙ্গু নদী, উপজাতিয়দের জীবনাচারসহ অসংখ্য ছোট বড় পর্যটন স্পট।
ঈদের পরের দিন থেকে বান্দরবানের কোন হোটেল, মোটেল, কটেজ কোনটাই খালি নেই। বুকিং হয়ে আছে সব আসন। আবার হোটেল, মোটেলে সীট না পেয়ে অনেকে উঠছেন আত্মীয় স্বজন,বন্ধু বান্ধবদের বাসায়। আবার অনেকে হোটেলে সীট না পেয়ে বান্দরবান থেকে ২৫ কিঃ মিঃ দূরে কেরাণিহাট এর হোটেল গুলোতে অবস্থান করে বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দয্য অবলোকন করছে বলে অনেক পর্যটক জানান।
এদিকে বান্দরবান পর্যটন হোটেল, মোটেল, গেষ্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানান, বান্দরবানে প্রায় ৪৫টি হোটেল, মোটেল, গেষ্ট হাউস সব বুকিং হয়ে আছে গত কয়েকদিন ধরে। এসব গুলোতে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ হাজার পর্যটকের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। পর্যটকদের আগমন উপলক্ষে হোটেল, মোটেল গুলোকেও সাজানো হয়েছে নব সাজে।
অন্যদিকে ঢাকার নারায়নগঞ্জ থেকে আগত পর্যটক সাকিল জানান,  বান্দরবান কক্সবাজারের চাইতেও সুন্দর হলেও এখানে পর্যটকদের থাকার ও খাওয়ার জন্য তেমন কোন উল্লেখ্যযোগ্য সুযোগ সুবিধা নেই। তাই যোগাযোগসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা বাড়ালে বাংলাদেশ নয় বিশ্বের সেরা পর্যটন কেন্দ্রে রুপান্তরিত হবে বান্দরবান।

এম এ মালেক, বান্দরবান,থেকে ।


(আপনার মোবাইল নম্বরটি অপ্রকাশিত থাকবে)


(আপনার ইমেইল এ্যাড্রেসটি গোপন রাখা হবে)


(বাংলায় মন্তব্য লিখতে ইউনিকোড বাংলা সফ্‌টওয়্যার ব্যবহার করুন)

পাতার শুরুতে