,

রংপুর কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা করা জরুরী

 রংপুর বিভাগের ৮টি জেলা নিয়ে গঠিত রংপুর বিভাগ । দেশের কৃষিপণ্যের চাহিদার শতকরা ৪৫% ভাগ পূরণ হচ্ছে এই বিভাগ থেকে। উন্নয়ন বঞ্চিত ও রাষ্ট্রীয়ভাবে অবহেলিত এ অঞ্চলের মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থেকেছে বৃটিশ শাসন আমল থেকেই। যতটুকু উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে তা হয় ব্যক্তিগত ভাবে নয়তো কোন সংগঠন কিংবা গোষ্ঠিগত উদ্যোগে।এ অবস্থা থেকে ফিড়িয়ে এসে এ অঞ্চলের জন্য পৃথিক অর্থনৈতিক কাঠামো গঠনের উদ্দেশ্যে কৃষি ভিত্তিক উন্নয়নের চিন্তা থেকে অবিলম্বে ‘রংপুর কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা করা জরুরী। বর্তমানে রাজশাহী কৃষিউন্নয়ন ব্যাংকের সাবেকী আমলের ঋণের বোঝা রংপুর বিভাগের কৃষকদের কাঁধে না চাপিয়ে পৃথক ব্যবস্থপনায় রংপুর কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এ অঞ্চলের কাজ করলে তুলনা মূলকভাবে যে কোন অঞ্চলের কৃষি ব্যাংকের চেয়ে ভালো করবে।
সরকারী কোন উন্নয়ন বৃটিশ শাসন, পাকিস্তান শাসন ও স্বাধীন বাংলাদেশের ৪০ বছর শাসন আমলেও হয়নি। সংবিধানে সমন্নোয়নের বাণী উল্লেখ থাকা সত্বেও বৃটিশ এবং পাকিস্তানীদের ন্যায় উন্নয়ন কার্যক্রম হয়েছে দেশের কোন কোন অঞ্চলে। এর বাইরে যতটুকু হয়েছে ততটুকু শুধু লোকদেখানো বা দাতাদেশের প্রেক্রিপশন ফলো করতে গিয়ে করা হয়েছে। দেশের অঞ্চল ভিত্তিক সমন্নোয়ন নিশ্চিত করা হলে মঙ্গাপিড়িত অঞ্চল বলে রংপুর বিভাগকে আখ্যায়ীত করে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে এখানে বিত্তবান এবং দেশী বিদেশী এনজিওরা ঘুরফির করতে না। মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত কল্পে সরকারের পক্ষ থেকে যদি সঠিক সময় সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ হতো। তাহলে হয়তো রংপুরে অভিমুখে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে মানুষ কাজের সন্ধানে আসতো। বলা বাহুল্ল এক সময় ব্যক্তিকেন্দ্রীক উন্নয়ন রংপুর অঞ্চলে ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল তখন দেশের নোয়াখালী, কুমিল্লা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ থেকে দলে দলে মানুষ আসতো এখানে কাজের সন্ধানে তাদের অনেকে এখনো বসতি করে আছে। দেশের কৃষিপ্রধান অঞ্চল হিসাবে এ অঞ্চলের খ্যতি ছিল উপমহাদেশে। হালে এখানে অন্যান্য জেলার মানুষের বসতি স্থাপন এবং সরকারের সঠিক ও নেক দৃষ্টি না থাকায় জনসংখ্যার চাপবৃদ্ধি ও উন্নয়ন বিমুখ মানুষের পরিবারে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে আবাদী জমি কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে কাজের সন্ধানে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই জেলার মানুষকে কর্মের সন্ধানে ছুটতে হচ্ছে। সমন্নোয়ন নিশ্চিত কল্পে সরকার এখনও যদি কৃষি প্রধান এ অঞ্চলের ব্যাপক কৃষি কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ তাহলে এ অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার চলনসই উন্নয়ন সম্ভব। এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য এখন পর্যন্ত সরকারীভাবে পৃথক কোন আর্থিক সুবিধে দেয়া বা তাদের জন্য পৃথক অর্থনৈতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। কৃষিক্ষেত্রের উন্নয়নের লক্ষ্যে অবহেলিত উন্নয়ন বঞ্চিত এ বিভাগে পৃথক অর্থ নৈতিক কাঠামো প্রস্তুত করতে হবে। ব্যাপক কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে সহজ শর্তে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা, কৃষিভিত্তিক কলকারখানা প্রতিষ্ঠার জন্য কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে কৃষিশিল্প ঋণ প্রদানসহ  কৃষিউন্নয়নের লক্ষ্যে যুপোযোগি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কারণ কৃষি ভিত্তিক এ অঞ্চলের মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে যুদ্ধ করে কৃষিপণ্য উৎপাদন করে দেশের কৃষিপণ্যের চাহিদা পূরণ করলেও তারা সর্বকালেই অধিকার বঞ্চিত থাকছে। এ ধারা পরিবর্তন ঘটাতে না পারলে অর্থনৈতিক ভাবে এ অঞ্চলের মানুষ দিন দিন আরও পিছিয়ে পড়বে। এমনিতেই দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এ অঞ্চলের মানুষ অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে।
সংবিধানে উল্লেখিত অঞ্চল ভিত্তিক সমউন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষে গণতান্ত্রিক সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। ১৯৭৫এর পট পরিবর্তনের পর এদেশের সামাজিক, শিক্ষা, রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি সর্বক্ষেত্রে ধস নেমেছে। এ ধস ঠেকাতে এক্ষুনি প্রয়োজন গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় সম উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এ অঞ্চলের অর্থনীতি মূলতঃ কৃষি ভিত্তিক। কৃষি ভিত্তিক এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে চাঙ্গা করতে বা পৃথকভাবে হিসাব নিকাশ করতে রংপুর বিভাগের জন্য পৃথক একটি কৃষি ব্যাংক স্থাপনের বিকল্প নেই।  অবিলম্বে ‘রংপুর কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা করে কৃষি ক্ষেত্রের উন্নয়নে এগিয়ে আসা। দেশের অর্থনীতিবীদগণ বিভাগ ওয়ারী যদি অর্থনৈতিক কাঠামো বিনিমার্ণের চিন্তা ভাবনা করেন তাহলে দেশীয় ভিত্তিতে অর্থনীতিতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধান সম্ভব। অন্যথায় জাতীয় অর্থনীতি ভিত্তিক কর্মকান্ডে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বিবর্তন কোন কালেই সম্ভব নয়। দেশে পূর্ণগণতান্ত্রিক ভাবাদর্শের একটি সরকার ব্যবস্থা কার্যকর থাকা অবস্থায় আঞ্চিলিক অর্থনীতির বীজবপন করার এখনই উত্তম সময়। সময়মত সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা না গেলে জাতিগতভাবে আমরা আরও পিছিয়ে পড়বো।
রংপুর কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে কৃষিভিত্তিক কলকারখানা ও কৃষি উন্নয়নের তাবত কর্মকান্ড যদি একই বাংক থেকে পরিচালিত হয় তাহলে অলস টাকার যেমন সৎ ব্যবহার সম্ভব; তেমনি সম্ভব দ্রুত একটি আঞ্চলিক অর্থনীতির কাঠামো বিনির্মাণ করা। বর্তমান সরকার ঘোষিত এ বিভাগে নবনির্মিত অর্থনীতির কাঠামো গ্রহণ করলে গৃহিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হবে সময়পযোগি ও সঠিক সিদ্ধান্ত। পুরনো ধাচের কৃষি ভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামোতে কিছু কিছু ভুল- ত্রু টি ছিল বা আছে। ঐ ভুল- ত্রুটি গুলো ছেঁটে ফেলে নতুন বিভাগের ক্ষেত্রে যদি নতুন ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশুদ্ধ কৃষি এবং কৃষিশিল্প ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়, তাহলে কৃষকরা যেমন উপকৃত হবেন তেমনিভাবে সম্ভবনাময় এ অঞ্চলের কৃষি ক্ষেত্রেও আসবে বৈপ্লাবিক পরিবর্তন। এতে করে বেকার সমস্যা, সামাজিক অস্থিরতা থেকে শুরু করে নানাবিধ সমস্যার সমাধান নিশ্চিত সম্ভব হবে। কারণ রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক যাদের নিয়ে পথ চলেছে তাদের মধ্যে লাভজনক অধিকাংশ গ্রহকের সংখ্যা রংপুর বিভাগেএই অবস্থা থেকে নবঘোষিত এই বিভাগের কৃষকদের বের করে একটি পৃথক কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হলে নবদিগন্তের সূচনা হবে।

 আব্দুর রহমান মিন্টু,রংপুর থেকে


(আপনার মোবাইল নম্বরটি অপ্রকাশিত থাকবে)


(আপনার ইমেইল এ্যাড্রেসটি গোপন রাখা হবে)


(বাংলায় মন্তব্য লিখতে ইউনিকোড বাংলা সফ্‌টওয়্যার ব্যবহার করুন)

পাতার শুরুতে