লোকবল সংকটের কারনে রেল বিভাগে কিছু লোক অনিয়ম করেও পার পেয়ে যায় - যোগাযোগ মন্ত্রী
রেলকে অনেকেই নিজেদের স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে । এটা নিদারুন অবহেলা ও উপেক্ষার শিকার। ট্রেন সত্যিাকার অর্থে গরীব হয়ে পড়েছে। রেল বিভাগের এ সমস্যাগুলো অনেক বছরের পুরানো । এগুলিকে রাতারতি পরিবর্তন করা যাবে না। লোকবল সংকটের কারনে এ বিভাগে কিছু লোক অনিয়ম করেও পার পেয়ে যায়। ব্যবস্থা নিলে সেখানে বিকল্প কোন লোক পাওয়া য়ায়না। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রেলে ১১ হাজার লোক নিয়োগ করা হবে । মানুষ আজকে অল্প পয়সায় নিরাপদ ভ্রমনের জন্য ট্রেনকেই প্রাধান্য দিচ্ছে । রেলের উন্নয়নে আগামী বছর বেশ কিছু কোচ ও ইঞ্জিন আনা হচ্ছে । জানুয়ারীতে দ্বিমূখী শাটল ট্রেনও আসাছে ।গত কয়েকদিনে গাজীপুর সদর উপজেলার মীরের গাও এলাকায় রেল লাইনের পাশে বেশ কিছু লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জয়দেবপুর রেলজংশনে এসে শনিবার সকালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে যোগাযোগ মন্ত্রী ওই সব কথা বলেন।
এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ( অপারেশন) মোঃ শাহজাহান মিয়া ,ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক সরদার শাহদত আলী ,গাজীপুরের এডি এম শাহনওয়াজ দিলরুবা খানসহ রেল ও পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী আরো বলেন , রেললাইনে পাশে একের পর এক লাশ পড়ে থাকার ঘটনাকে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন , এর পেছনে একটা কারণ ও রহস্য লুকিয়ে আছে। ছিনতাইকারীরা গাজীপুরের শুধু ওই অংশেই কেন লাশ ফেলছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। এজন্য তিনি রেল মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব মোঃ মোস্তফাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ( অপারেশন) মোঃ শাহজাহান মিয়া ও রেলওয়ে পুলিশের ডি আই জি মোঃ সোহরাব হোসেন।ওই কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি সন্ত্রাসীরা যাতে ট্রেনে ও ছাদে উঠতে না পাড়ে তারজন্য নিরাপত্তাকর্মীদের নজরদারী ও টহল জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রেনের নিরাপত্তা বিধানে ও অপরাধীদের সনাক্ত করতে ট্রেনের ভিতরে গোয়েন্দা বিভাগের লোকও থাকবে। এছাড়া মীরের গাও এলাকায় রেলওয়ে পুলিশের একটি অস্থায়ী ক্যাম্পস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ব্যাক্তি সতর্কতা , সর্বোত্তম সতর্কতা উলেখ করে মন্ত্রী যাত্রীদের ট্রেনের ছাদে ভ্রমন করতে বারন করেছেন।
মন্ত্রী মহাসড়ক নিয়ে বলেন , মহাসড়কে চাঁদাবাজীকে যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে উলেখ করে বলেন , যে ই চাঁদাবাজী করবে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রধান মন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স ‘ ।
জয়দেবপুর রেলজংশনে পোঁছার আগে সোমবার সকাল ১১টার দিকে যোগাযোগ ও রেলপথমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘটনাস্থল মীরেরগাঁও রেললাইন এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, মীরের গাঁও গাজীপুরের রেল লাইনের পাশে লাশ পাওয়ার ঘটনায় এই হত্যাকাণ্ডগুলোর জন্য রেল কর্মকর্তাদের গাফিলতি দায়ী।
গত এক মাসে রেল লাইনের পাশে ১২টি লাশ উদ্ধার নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের দুদিন পর শনিবার সদর উপজেলার মীরেরগাঁও এলাকায় রেললাইন এলাকায় যান মন্ত্রী।
ওই এলাকায় দেড় কিলোমিটারের মধ্যে গত পাঁচ দিনে পাঁচটি এবং এক মাসে ১২টি লাশ পাওয়া গেছে। এই মৃত্যুগুলোর সঠিক কারণ খুঁজে পাওয়া না গেলেও এর পেছনে ছিনতাইয়ের যোগসূত্র রয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
রেল লাইনের পাশে লাশ পাওয়ার ঘটনার জন্য রেল কর্মকর্তাদের গাফিলতিকে দায়ী করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “ওরা বসে বসে দুর্নীতি করে।”
এক পর্যায়ে মন্ত্রী তার মোবাইল ফোনে রেলওয়ের এক কর্মকর্তাকে কল করে বলেন, “অফিসে বসে ঈদ উৎসব কর! এখানে লোক মরছে, তোমাদের কোনো উদ্যোগ নেই?”
রেল লাইনের পাশে লাশ পাওয়ার এই ঘটনা তদন্তের জন্য রেল কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি। ছিনতাইকারী চক্রের সঙ্গে রেলকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
পাশাপাশি এই স্থানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান রেলপথমন্ত্রী। গাজীপুরের পাশাপাশি টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনকেও এই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
মীরের গাঁও থেকে ফেরার পথে ওবায়দুল কাদের গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের পাশে কাঁচাবাজার ও অস্থায়ী দোকানপাট দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করে তা তুলে দিতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।











