,

রাবি’তে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের ২ পক্ষের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্ততঃ ৬জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যাণ্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মাস্টার্সের মেহেদী হাসান ও ফলিত রসায়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তুষারকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের রাবি’র চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সোমবার ভোর রাত ৩টার দিকে রাবি’র শহীদ জিয়াউর রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে। তবে ব্যক্তিগত শত্র”তার জের ধরে এ অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবী করেছেন, রাবি’র ছাত্রলীগের সম্পাদক আবু হোসাইন। এঘটনায় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জিয়া হলে তল্লাশি চালিয়ে হাসুয়া, হাতুড়ি, রডসহ বেশ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে রাবি’র পুলিশ।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা সেল ফোনে প্রতিবেদককে জানান, কয়েক দিন আগে হলের টেলিভিশন রুমে রিমোট নিয়ে ওই হলের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ কর্মী তুষার ও সমাজকর্ম চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হারুন-অর-রশিদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। ওই সময় হারুন কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীকে নিয়ে তুষারকে মারধর করেছিলেন। ওই ঘটনার জের ধরে সোমবার রাত ৩টার দিকে তুষারের নেতৃত্বে ৫/৬ জন ছাত্রলীগ কর্মী ২২৭ থেকে ২৩৬ নং পর্যন্ত কক্ষগুলো বাইরে থেকে তারকাটা দিয়ে আটকে দেয়। যেন এ সময় কেউ বাচাঁতে না আসতে পারে। এরপর ২৩৪ নং রুমের ছাত্রলীগ কর্মী হারুনের কক্ষে গিয়ে হামলা চালায় তারা। কিন্তু হারুনের কক্ষ পূর্বের থেকেই ভেতর দিয়ে আটকানো থাকার কারণে সেসময় অবস্থা বেগতিগ দেখে আর বের হননি। তবে পাশের কক্ষ থেকে মেহেদী হাসান নামে আরেক শিক্ষার্থী বের হলে তুষার অতর্কিতভাবে রামদা দিয়ে মেহেদীকে কোপাতে থাকেন। মেহেদী এ সময় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে বাঁচাতে হারুন কক্ষ থেকে বেরিয়ে তুষারকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এতে তুষারও আহত হয়।
খবর পেয়ে হলের দায়িত্বরত পুলিশ ও হলের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে রাবি’র চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান। পরে সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি ঘটলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনার কথা শুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর চৌধুরি মোহাম্মদ জাকারিয়া ও হল প্রভোস্ট প্রফেসর ড. নারায়ণ রায়ের নেতৃত্বে রাত সাড়ে ৩টার দিকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রক্টর চৌধুরি মোহাম্মদ জাকারিয়া সাংবাদিকদের বলেন, গভীররাতে হলে ছাত্রদের এ ধরনের ঘটনায় আমরা ২৩৪ ও ২৩৫ নং কক্ষ সীলগালা করে দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, এঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হবে। ঘটনার কথা স্বীকার করে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হোসাইন বলেন, এটি একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা। ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে ওই ঘটনা ঘটেছে, এতে ছাত্রলীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

এস.এইচ.এম তরিকুল ইসলাম, রাজশাহী থেকে


(আপনার মোবাইল নম্বরটি অপ্রকাশিত থাকবে)


(আপনার ইমেইল এ্যাড্রেসটি গোপন রাখা হবে)


(বাংলায় মন্তব্য লিখতে ইউনিকোড বাংলা সফ্‌টওয়্যার ব্যবহার করুন)

পাতার শুরুতে