চাটমোহরে স্লুইস গেট বিকল হাজার হাজার একর জমির আমন : ধান হুমকির মুখে : কৃষক দিশেহারা
পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের নটাবাড়িয়া এলাকায় কিনু সরকারের জোলায় স্থাপিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইস গেটটি নির্মাণ জনিত ক্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে বিকল হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মীরা চেন-কাপড়া দিয়ে কয়েক দফা গেট খোলার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। উপরন্তু তাদের অপচেষ্টার ফলে গেটের একটি কপাটের চৌ-কাঠ ভেঙ্গে গেছে, অপর তিনটি চৌ-কাঠ বেঁকে বসেছে। গেট খুলতে ব্যর্থ কর্মীরা নির্মাণ ক্রুটির কথা বলে জেটি কলের সাহায্যে গেটের কপাট খোলা সম্ভব বলে জানিয়েছেন।
এদিকে গেটটি না খোলার কারণে স্লুইস গেটের দক্ষিণ চলনবিলে পানি শুন্য হয়ে পড়েছে। উত্তর পাশে পানি থাকলেও দক্ষিণ পাশে পানি শুণ্য রয়েছে। ফলে পাবনা ও নাটোর জেলার বিস্তীর্ণ মাঠে পানির অভাব দেখা দেওয়ায় মাঠে থাকা হাজার হাজার একর জমির ধান ও পাট হুমকির মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষক পানির জন্য প্রকৃতির পানে চেয়ে আছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই স্লুইস গেটটি পানি ব্যবস্থাপনা স্থানীয় কৃষকদের হাতে ছেড়ে দেবার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তা দেয়নি। বরং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে পাবনা ও নাটোর জেলার হাজার হাজার কৃষকেরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাটমোহরে নটাবাড়িয়ায় অবস্থিত এই কিনু সরকারের জোলাটি পাবনা ও নাটোর জেলার বেশ কিছু বিলে পানি প্রবেশের একমাত্র রুট। একটি সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানি আসতে শুরু করলেই বন্ধ করে দেওয়া হয় এই স্লুইস গেটটি। এদিকে পানির অভাবে উৎপাদিত পাটও পঁচাতে পারছে না কৃষকেরা। তবে কৃষকদের অভিযোগ স্থানীয় কৃষি অফিসের কোন নজরদারিও নেই। দক্ষিণ চলনবিলের চলনালী গ্রামের কৃষক মো. আজাদ জানান, পানি নেই তাই জমির ধান রোদে পুড়ে লালচে হয়ে মরার উপক্রম। অন্য বছর গুলোর তুলনায় চলতি বছরে তেমন বৃষ্টি নেই। বর্ষাতেও মাঠে পানি নেই। তাই প্রতি বছরই পানির অভাবে দক্ষিণ চলনবিলের প্রায় হাজার হাজার কৃষকের এ ধরনের দূর্ভোগ পোহাতে হয়। কৃষকেরা অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে কোন কর্মকর্তা কর্মচারীরা এব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে তেমন কোন তৎপরতা দেখা যায় না।
অপরদিকে, ১০/১২ দিনের মধ্যে পানি না পেলেই রোপনকৃত ধানগুলো জমির জন্য জৈব সারে রুপান্তরিত হবে। দক্ষিন চলনবিলের গুরুদাসপুর উপজেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ঐ স্লুইস গেটটি খুলে দেওয়ার জন্য কিনু সরকার নামে জোলার ধারে গেলেও কোন লাভ হয়নি। এব্যাপারে দক্ষিণ চলনবিলের কৃষকেরা নাটোর ডিসি অফিসের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাট চাষী আ. রহিম বলেন, মাস খানেক হলো বর্ষা মৌসুম শুরু। কিনু সরকারের ধরে নির্মিত স্লুইস গেটটি বন্ধ করে দেওয়ায় পুরো দক্ষিণ চলনবিলে এক মাস ধরে পানি শূন্যাবস্থা বিরাজ করছে। একারনে কৃষকের উৎপাদিত পাট কাটতে পারলেও পানির অভাবে তা পঁচানো যাচ্ছে না।
দক্ষিন চলনবিলের পানি শুন্য ব্যাপারে গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বাবলু কুমার সূত্রধর জানান, আমরা চাটমোহর কৃষি কর্মকর্তাকে স্লুইস গেটটি খুলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও এলাকাবাসী স্লুইস গেটের কপাট খোলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। প্রসঙ্গতঃ এই স্লুইস গেট নির্মাণে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠলেও পাউবো কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। বরং তারা নিজেরাই এব্যাপারে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রওশন আলম জানান, কৃষি স্বার্থেই স্লুইস গেটটি নির্মাণ করা হয়েছে। গেটটি খুব দ্রুত খুলে দেয়া হবে। তাহলে কৃষকদের সকল সমস্যা নিরসন হবে।
মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চাটমোহর (পাবনা) থেকে ।













