রংপুরে দাদন ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে শত শত মানুষ সর্বশান্ত
রংপুরের বিভিন্ন স্থানে দাদন ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে হাজার হাজার মানুষ সর্বশান্ত হয়ে পথে বসেছে। দাদন চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অপর দিকে ঈদকে সামনে রেখে তারা সক্রিয় হয়ে উঠছে।সরেজমিনে খোজ খবর নিয়ে জানা গেছে , রংপুর মহানগরীর পাগলাপীর বন্দরে দীর্ঘ দিন ধরে বেশ কয়েটি দাদন ব্যবসায়ী চক্র গড়ে ওঠেছে। এরা বিভিন্ন ভাবে মানুষকে ফাদে ফেলে ঋণের জালে আবদ্ধ করছে। এরা অসহায় ক্ষতিগ্রস্থ ও ছোট ছোট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মানুষকে বিভিন্ন ভাবে টাকা ঋণ দিয়ে সাদা স্টাম্পে অথবা চেক লিখে নেয়। টাকা অংক বসায় না। পরে নিজেদের ইচ্ছেমত টাকার অংক বসিয়ে সুদ আদায় করে। কেউ এদের কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করলে তাকে মিথ্যা মামলায় জেল হাজত পর্যন্ত পাঠানো হয়েছে বলে ওই দাদন ব্যবসীয়দের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসির অভিযোগে জানা যায়, পাগলাপীর ও আশপাশ এলাকার মানিক মিয়া, মকুল মিয়া, শিশু মিয়া, সামাদ সরকার, নজরুল ইসলাম, আব্দুর রউফ দুদু, ছফু মিয়া, শাহজাহান দর্জি, ইয়াকুব আলী, লেবু মিয়াসহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যাক্তি দাদনের রমরমা ব্যবসা করে অল্প দিনের মধ্যে টাকার পাহাড় গড়েছেন। এদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রান করা হয়। পাগলাপীরের আলায়াকুড়ি এলাকার জগদিশ চন্দ্রের পুত্র মানিক চন্দ্র ১২ হাজার টাকা সুদের বিনিময়ে নিয়েছিল প্রতি হাজারে মাসে ২শ টাকা করে সুদ দিবে । বিনিময়ে তার কাছ থেকে সাদা স্টাম্প, ফাকা চেক ও জমির দলিল নেয় দাদন ব্যবসায়দের ওই চক্রটি। সুদের টাকা দিতে না পারায় মানিক চন্দ্রের কাছ থেকে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এর প্রতিবাদ করলে তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়। মানিক চন্দ্রের মত চামড়া ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন, একরামুল, মোস্তাকিম, আতোয়ার, রহমান, মিলন মিয়া, ওয়াচ মিয়াসহ শতাধিক ব্যক্তি দাদন ব্যবসায়িদের খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হয়ে পথে বসেছে।পাগলাপীর এলাকার সচেতন নাগরিক দাদন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্দে আন্দোলন করে কোন লাভ হয়েনি তারা প্রশাসকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে কড়া সুদে দাদন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা আশা করছেন ভুক্তভোগীরা।
আব্দুর রহমান মিন্টু,রংপুর থেকে ।











