,

সাতকানিয়ায় শাহনাজ এখন পূরবী বড়ুয়া

প্রেমিক স্বামী নির্মল বড়ুয়া সাথে শাহনাজ আকতার ওরফে পূরবী বড়ুয়াসাতকানিয়ায় এক মুসলিম যুবতী তার বড়ুয়া প্রেমিকের সাথে সংসার করতে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে। উপজেলার বাজালিয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। এতে মুসলিম ও বড়ুয়া সমাজে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ প্রশাসন ও ইউপি চেয়ারম্যানকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, বড়দুয়ারা ফরেস্ট অফিসের পূর্বে বাকর আলী বিল বড়ুয়া পাড়ায় কৃষক নিটু বড়-য়া ও সোনা রানী বড়ুয়ার ছোট ছেলে নির্মল বড়ুয়া (২১) ও টেকনাফ উপজেলার হোয়াইকং ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের নয়াবাজার পূর্ব সাতঘড়িয়া পাড়ার কাকড়া ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল প্রকাশ সুলতান ও হাজেরা বেগমের কন্যা শাহনাজ আকতার (২০) নগরীর হালিশহরে সাগরিকা গার্মেন্টসে চাকরি করতো। সেই সুবাদে গত ২ বছর যাবৎ তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। তাদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ওদের সম্পর্ক গভীর হয়ে গেলে শাহনাজ বিয়ের জন্য নির্মলকে চাপ দেয়। বিয়ের শর্ত হিসেবে নির্মল শাহনাজকে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হবার প্রস্তাব দেয়। প্রেমিকের প্রস্তাবে রাজি হয়ে শাহনাজ বিগত ১৮ জুলাই চট্টগ্রাম নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্যাটের কাছে হাজির হয়ে ধর্ম পরিবর্তন সংক্রান্ত হলফনামা (নং ১১৬৫৫/১২) দাখিল করে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ পূর্বক বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করার ঘোষণা দেয়। এতে সে বৌদ্ধ ধর্মের বই পুস্তক পাঠ করে উক্ত ধর্মের আচার-আচরণ, রীতিনীতি ও জীবন ব্যবস্থা ইত্যাদির প্রতি মুগ্ধ ও আকৃষ্ট হয়ে স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে, সুস্থ শরীরে কোন প্রকার প্ররোচনা ব্যাতীত পূর্ব ধর্ম ইসলাম ত্যাগ করে চট্টগ্রাম শহরের নন্দনকানন সার্বজনীন বৌদ্ধ মন্দিরে ভিক্ষু সংঘের মাধ্যমে ত্রিপিটক পাঠ করে ভগবান বুদ্ধের উপর বিশ্বাস স্থাপন করার ঘোষণা দেয়। হলফনামায় সে আরো উল্লেখ করে সেদিন হতে তার নাম শাহনাজ আকতারের পরিবর্তে পূরবী বড়ুয়া, তার পিতার নাম আব্দুল জলিল সুলতানের পরিবর্তে ঝুনু বড়ুয়া এবং মায়ের নাম হাজেরা খাতুনের পরিবর্তে স্বপ্না রানী বড়ুয়া লিপিবদ্ধ হবে। একইদিন একই নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে ১১৬৫৬/১২ নং হলফনামামূলে শাহনাজ আকতার ওরফে পূরবী বড়ুয়া তার প্রেমিক নির্মল বড়ুয়াকে দীর্ঘদিনের পরিচয় ও জানাশোনার প্রেক্ষিতে গড়ে উঠা ভালবাসার সম্পর্ককে চিরস্থায়ী রুপদানের উদ্দেশ্যে স্বামী হিসেবে গ্রহণের ঘোষণা দেয়। নির্মল তার নব বিবাহিত ও ধর্মান্তরিত স্ত্রীকে বাজালিয়ায় নিজ বাড়ীতে নিয়ে আসলে তার পরিবার ও সমাজে বিপত্তি দেখা দেয়। তার পিতামাতা শাহনাজ ওরফে পূরবীকে বাড়ীতে স্থান না দেয়ায় তাকে স্থানীয় ইউপি মেম্বার আব্দুস সবুরের বাড়ীতে রাখা হয়। পরে মেম্বার সবুরের মধ্যস্থতায় তাদেরকে বৌদ্ধ ধর্মের রীতি অনুযায়ী নতুনভাবে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ করিয়ে নির্মলের বাড়ীতে তোলা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় মেম্বার সবুর স্থানীয় মুসলিম সমাজের রোষানলে পড়েছেন। একজন মুসলিম হয়ে অপর এক মুসলিম যুবতীকে বৌদ্ধ ধর্মানুযায়ী বিয়েতে সহায়তা করার বিষয়টি স্থানীয় মুসলিম সমাজ মেনে নেয়নি। আবার বড়ুয়ার ঘরে ধর্মান্তরিত মুসলিমের বসবাসের বিষয়টিও স্থানীয় বৌদ্ধ সমাজ মেনে নিচ্ছেনা।গতকাল নির্মলের পিতা নিটু বড়ুয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, বিয়ের আগে জানতে পারলে আমি এ কাজটি হতে দিতাম না। নির্মল এখনও বিয়ের উপযুক্তও হয়নি। তার বড়বোনকেও আমি এখনও বিয়ে দিতে পারিনি। এখন সে যখন বিয়ে করেই ফেলেছে অগত্যা আর কি করার আছে। বান্দরবানের লু্ম্বিনী গার্মেন্টসে বর্তমানে ট্রেইনী হিসেবে কর্মরত প্রেমিক স্বামী নির্মল বড়ুয়া জানায়, সে তার প্রিয়াকে বউ করতে পেরে খুশী। শাহনাজ ওরফে পূরবী বড়ুয়ার কাছে জানতে চাইলে সে সরাসরি বলে, “আমার ধর্ম কিংবা পিতা-মাতার প্রয়োজন নেই। যাকে ভালোবেসেছি তাকে পেয়েছি, এতেই আমি খুশী। আমি নির্মলকে বড়ুয়া হিসেবে জেনে স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করেছি।” তবে স্থানীয় মুসলিম ও বৌদ্ধ সমাজের কেউই বিষয়টিকে স্বাগত জানায়নি। স্থানীয় মহিলা ইউপি মেম্বার জাহান আরা বেগম, ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাস্টার নুরুল আমিন সিকদার, সাতকানিয়া থানার সাব ইন্সপেক্টর শাহজালাল বাবুল সকলেই হতবাক এ ঘটনায়। তবে তারা সকলেই কোনরুপ ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
পুনশ্চ: মেয়েটি তার বাড়ি টেকনাফের হোয়াইকং উল্লেখ করলেও স্থানীয়রা ধারণা করছেন তার পিতামাতার আসল নিবাস মিয়ানমার। দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা হিসেবে বসবাসের পর গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে নির্মলের সাথে সে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে ফ্যাসাদে পড়ে যায়। রোহিঙ্গা পিতামাতার কাছে ফেরার যেমন সুযোগ নেই তেমনি নিজের সতিত্ব ও সম্মান হারিয়ে আর কোথাও ঠাঁই পাবার সুযোগও সে হাতছাড়া করে। অবশেষে একটুখানি বাঁচার তাগিদে সে মহাপবিত্র শ্ব্শ্বাত জীবন বিধান আল ইসলামের সুশোভিত জান্নাতি পথ পরিহার করে মুরতাদি পথ ধারণ করে অবিশ্বাস্যভাবে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করে হলেও একটু অবলম্বন ধরে রাখার চেষ্টা করছে। এ যেন আপন দোষে কুর হারিয়ে মহাসমুদ্রে ভাসতে ভাসতে সাপ ধরে বাঁচার চেষ্টা।

মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে


(আপনার মোবাইল নম্বরটি অপ্রকাশিত থাকবে)


(আপনার ইমেইল এ্যাড্রেসটি গোপন রাখা হবে)


(বাংলায় মন্তব্য লিখতে ইউনিকোড বাংলা সফ্‌টওয়্যার ব্যবহার করুন)

পাতার শুরুতে