ভারতের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি ভোটে বিপুল ব্যবধানে জিতে গেলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়
প্রত্যাশা মতোই ভারতের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি ভোটে বিপুল ব্যবধানে জিতে গেলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। একই সাথে তিনি হলেন প্রথম বাঙ্গালী রাষ্ট্রপতি। প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জন্ম হয়েছিল ১১ ই ডিসেম্বর ১৯৩৫ সালে অবিভক্ত বাংলার বীরভূম জেলার মিরাটি গ্রামে। তাঁর বাবা কামদা কিংকর মুখোপাধ্যায় ছিলেন একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী। তাঁর মাতা রাজলক্ষ্মী দেবী ছিলেন নিতান্তই গৃহবধু। তাঁর বাবাকে ব্রিটিশ শাসনকালে দশ বছর কারারুদ্ধ থাকতে হয়েছিল। কারামুক্ত হয়ে তিনি অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধান পরিষদের সদস্য হয়েছিলেন। গ্রামের সাধাসিধে ছেলে পল্টুই পরে হয়ে যান প্রণব মুখোপাধ্যায়। সিউড়ির বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে পাস করে কিছুদিন শিক্ষকতা করে চলে যান পুরোপুরি কংগ্রেসের রাজনীতিতে।
প্রণব মুখোপাধ্যায় এখন ভারতের রাষ্ট্রপতি। অতীতে তিনি বিভিন্ন সময়ে ভারতের বিদেশ, প্রতিরক্ষা, যোগাযোগ, রাজস্ব, অর্থ ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব পালনের বিরল কৃতিত্বের অধিকারী। কংগ্রেস দল ও গান্ধী পরিবারের প্রতি আনুগত্য তাকে আজ ভারতের শীর্ষস্থানে পৌছে দিয়েছে। অসামান্য প্রজ্ঞা এই বাঙালি রাজনীতিবিদকে কংগ্রেস দলে ও এমনকি দলের বাইরেও বিশেষ শ্রদ্ধার পাত্র করেছে। দেশের প্রতি অবদানের জন্য তাঁকে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মবিভূষণ ও শ্রেষ্ঠ সাংসদ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।
প্রণব মুখোপাধ্যায় একজন কলেজ শিক্ষক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। পরে সাংবাদিকের কাজও করেছিলেন ‘দেশের ডাক’ পত্রিকাতে। এছাড়া বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের ট্রাস্টি, নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলন প্রভৃতির সাথেও যুক্ত ছিলেন। প্রণব মুখোপাধ্যায় প্রায় পাঁচ দশক ভারতীয় সংসদের সদস্য। ১৯৬৯ সালে প্রথম কংগ্রেস দলের প্রতিনিধি হয়ে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৭৫, ১৯৮১, ১৯৯৩ ও ১৯৯৯ সালেও তিনি রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর ১৯৭৩ সালে কেন্দ্রীয় শিল্পোন্নয়ন দপ্তরের উপমন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রথম মন্ত্রী হন। এরপরে আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
তবে ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধী হত্যার পরে দলীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব্ব্বের কারনে প্রণব মুখোপাধ্যায় দল ছেড়ে নতুন দল রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস গঠন করেছিলেন। যদিও সেই দল কোন সফলতা দেখাতে পারেনি। পাচ বছর পরে ১৯৮৯ সালে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে মিটমাট করে তিনি আবার কংগ্রেসে যোগ দেন। এর পর থেকে কংগ্রেসের রাজনীতিতে তিনিই হয়ে ওঠেন ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’।
প্রণব মুখোপাধ্যায় পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হয়েছিলেন শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তাঁদের দুই পুত্রের একজন অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক। অপর এক পুত্র ও এক কন্যা বর্তমান আছেন ভিন্ন ভিন্ন পেশায়। তাঁর অবসরকালীন শখ বই পড়া, বাগান করা ও গান শোনা। আর নিপাট সাদামাটা বাঙ্গালীটি বছরে একবার নিয়ম করে পুজোর ছুটিতে মিরাটির গ্রামের বাড়ীতে আসেন এবং গ্রামের মানুষের সাথে পুজোর আনন্দে মেতে ওঠেন। তিনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি হলেও তার এই নিয়মে কোন ব্যাঘাত ঘটবে না।
দীপক রায়, কলকাতা থেকে ।











