বাড়ী ভাড়ার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বিরুদ্ধে এবার আদালতে মামলা
ক্ষমাতার অপব্যবহার ও আইন অমান্য করে বাড়ী ভাড়ার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মঙ্গলবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) কাজী শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে গাজীপুরের জেলা ও দায়রাজজ আদালতে মামলা হয়েছে। এ কাজে সহযোগিতার অভিযোগে উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) অধ্যাপক তোফায়েল আহমদ চৌধুরী, ট্রেজারার কাজী ফারুক আহমেদ এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিষ্ট্রার মোল্যা মাহফুজ-আল-হোসেনসহ আরো ১১ কর্মকর্তাকে ওই মামলায় আসামী করা হয়েছে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী কলেজ পরিদর্শক এইচ.এম.এ. শাহ্জাহান বাদি হয়ে ওই মামলাটি দায়ের করেছেন। এতে অন্য অভিযুক্তরা হলেন- সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও বর্তমান উপ-রেজিস্ট্রার (পরিষদ) মোঃ শহীদুর রহমান, বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ফাহিমা সুলতানা, সহকারী-রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) দিলরুবা বেগম, প্রক্টর ও উপ-রেজিস্ট্রার এইচ এম তায়েহীদ জামাল (শিপু), আইন বিষয়ক ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (স্বপন), অর্থ ও হিসাব বিভাগের সহকারি পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন বাদল, বেতন ও কল্যাণ শাখার সহকারী পরিচালক শেখ মুহাম্মদ মুফাজ্জল হুসাইন এবং সেকশন অফিসার মোঃ আবুল হোসেন।
বাদি পক্ষের গাজীপুর জজ কোর্টের আইনজীবী আব্দুস সাত্তার জানান, মামলাটি মঙ্গলবার আদালতে উপস্থাপন করলে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করেন।
মামলার বাদি ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অধ্যাপক কাজী শহীদুলাহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে যোগদানের পর থেকে অন্যান্য আসামির সহায়তায় পরস্পর যোগসাজসে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল হতে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বাড়ী ভাড়া বাবদ প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৮লাখ ২০ হাজার টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের ৩৩৫৭৯ নম্বর সঞ্চয়ী হিসাবে স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি’র আবাসিক কার্যলয়ের জন্য নির্ধারিত একটি প্রাইভেট কার ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে তাঁর স্ত্রীকে ব্যাক্তিগত ব্যবহারের জন্য দিয়েছেন। ওই গাড়ীটির তেল, ড্রাইভারের বেতন ভাতাসহ অন্যান্য খরচ বাবদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল হতে প্রতি মাসে আরও ৬০ হাজার টাকা অপব্যবহার ও অপচয় হচ্ছে।
তিনি আরো জানান , জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের বসবাসের জন্য ১৯৯২ সাল থেকে ধামন্ডি আবাসিক এলাকায় (বাসা নং- ৮৬, রোড নং- ১১/এ) একটি ব্যাণিজ্যিক ব্যাংকের নিকট হতে সুসজ্জিত বাসা ভাড়া নেয়া আছে, যা ভাইস-চ্যান্সেলরের ইয়ারমার্ক করা বাসা। ইয়ারমার্ক ঐ বাসায় প্রফেসর কাজী শহীদুল্লাহ সাহেবের পূর্বের সকল ভাইস-চ্যান্সেলরই বসবাস করেছেন এবং তাঁরা কোন বাড়ী ভাড়া নেননি। কিন্তু কাজী শহীদুল্লাহ বাড়ী ভাড়ার অর্থ আত্মসাৎ করার লক্ষ্যে তিনি ঐ বাসায় থাকেন না। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল হতে ঐ বাসার ভাড়া বাবদ প্রতিমাসে ১লাখ ৫০হাজার টাকা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোন, গার্ড, মালি ও দারোয়ান খরচ বাবদ প্রতিমাসে আরো প্রায় ১লাখ টাকাসহ মোট ২ লাখ ৫০ টাকা হারে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাস হতে এ পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল হতে সর্বমোট প্রায় ২ কোটি টাকা অপব্যবহার ও অপচয় করা হয়েছে।
মামলার এজাহার হতে আরো জানা যায় ভাইস-চ্যান্সেলরকে বাড়ী ভাড়া ও তাঁর স্ত্রীকে সার্বক্ষণিক গাড়ী ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়ার সুবাদে অন্যান্য আসামিরা অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই অনৈতিকভাবে অধিক লাভবান হয়েছেন। এছাড়াও অন্যান্য আসামিদের মধ্যে কেউ কেউ নিজে বা তাদের স্বজনরা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পদোন্নতি পেয়েছেন।
বাদির অভিযোগ,গত ১০ জুলাই জয়দেবপুর থানার এ ঘটনায় অভিযোগ পত্র দায়ের করলেও ওসি এসএম কামরুজ্জামান অভিযোগপত্রটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেননি। পরে বাদি বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার আদালতের আশ্রয় নেন।
উলেখ্য , শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ অমান্য করে অবৈধ নিয়োগ প্রাপ্তদের সিলেকশন গ্রেড প্রদানের মাধ্যমে বেতন বাড়ানোর অভিযোগে গত ২৯ জুন গাজীপুর -১ আসনের এমপি এ্যাডভোকেট আকম মোজাম্মেল হক এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের বেতন ভাতা প্রদানের অভিযোগে ৭ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ভিসি সহ ১৩ জনকে আসামী করে আরো দু’টি মামলা দায়ের করেন।
আবুল হোসেন,গাজীপুর গাজীপুর থেকে ।











