মাগুরা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ‘কুটুম ও দোয়েল পাখি’
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার গ্রাম থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ‘কুটুম ও দোয়েল পাখি’ পাখি। আকর্ষণীয় রঙের এই পাখিটি দুইটি শুধু পালকের জন্যই নয়, বরং সুরেলা কন্ঠস্বরের জন্যেও সবার নজর কাড়ে। এই পাখির সুরেলা কন্ঠ ‘কুটুম ও দোয়েল পাখি’ নানা সুরের ডাকে মুখর হয়ে থাকতো গ্রামের বাড়ি গুলো। বর্তমানে অতিরুক্ত বৃক্ষ নিধন এবং আবাদি জমিতে বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগের কারণে ‘কুটুম ও দোয়েল পাখি’ বিলুপ্ত হতে বসেছে। এখন খুব একটা চোখে পড়ে না এই পাখি দুটি। নতুনদের কাছে দুইট পাখিটি অপরিচিতি হতে বসেছে। হলদে কুটুম পাখি আকৃতিতে শালিক পাখির মতো। লম্বা ২৩ থেকে ২৪ সেন্টিমিটার। গায়ের পালক উজ্জ্বল হলুদ, লেজ ও পাখার উপরের অগ্রভাগের পালক কালো, গলা ও মাথার রং উজ্জ্বল ডোল চিকচিকে কালো হলেও ঠোঁট, চোখ ও পা দুটো টকটকে লাল। এরা ঝোপঝাড়ে শুকনা ডাল, খড়কুটো, আগাছা দিয়ে গাছের ডালের বাসা বানায়। বসন্ত ও গ্রীম্মের মাঝামাঝি এদের প্রজনন মৌসুম। সাদা রঙের বাদামী ফোটাযুক্ত তিন থেকে চারটি ডিম দিয়ে মেয়ে ও পুরুষ পাখি মিলে তা’ দিয়ে পনের থেকে সতের দিনে বাচ্চা ফুটায়। এরা পোকা-মাকড়, ফল সবই খেয়ে থাকে এছাড়া পাখি সম্পর্কে জানা যায় যে বাড়িতে কুটুম পাখি ডাকত সে বাড়িতে নাকি আত্নীয় আসত। কালো ও সাদা পালকের সুরেলা দোয়েল পাখি এখন চোখে পড়েনা। গাছে গাছে,বাঁশ ঝড়ে এবং খালপাড়ে এদের দেখা যেত। এ পাখিটি বিলুপ্ত প্রায়। এদের প্রধান খাবার ছিল ছোট পোকা মাকড়। গাছের ফাঁক ফোকরে এরা বাসা বাঁধতো। সুদর্শন এই পাখি এখন আর দেখা যায় না। এই পাখি বিশেষ করে তাদের গানের কারণে অন্য সব পাখির থেকে একেবারেই আলাদা। দেখলে মনে হবে পাখিটি এখনই লেজ নাড়িয়ে গান করবে । সর্বভুক পাখি, এরা সব সময় ছোট ফল, কচি পাকা ফুলের মধু ও ক্ষেতের বিভিন্ন প্রকারের সবজি জাতীয় ফল খেয়ে থাকে।
রাজু আহমেদ, (শ্রীপুর)মাগুরা থেকে ।











