,

আন্দোলনে উত্তাল বুয়েট!!

আন্দোলনে উত্তাল বুয়েট!!বিশেষ প্রতিনিধিঃ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বর্তমান উপাচার্য এবং উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বন্ধ ঘোষণার দ্বিতীয় দিনেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনে উত্তাল বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(বুয়েট)।শিক্ষার্থীরা বুধবার সারারাত ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি শেষে বৃহস্পতিবার সকাল

 থেকে আবারও প্রশাসন বিরোধী মিছিল স্লোগানে সরব করে তোলে ক্যাম্পাস। বুধবার দিনব্যাপী এবং সারা রাত শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিল ভবনের সামেন অবস্থান করে। উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের অপসারণ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টায় চলমান আন্দোলন বিষয়  কথা বলেন বুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।তিনি বলেন, বুধবারের মতো আন্দোলন চলছে। আমরা তাদের শুধরানোর জন্য বারবার সময় দিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের হতাশ করেছে। এখন তাদের পদত্যাগ ছাড়া আমরা মাঠ ছাড়বো না। এদিকে বুধবার রাতে বুয়েটের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের কাছে আবেদন করা হযেছে বলে উপাচার্য অধ্যাপক এসএম নজরুল ইসলাম জানান। এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুর বলেন, এটি উপাচার্যের একটি মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়। তিনি সিন্ডিকেটকে এটি অবহিত করেন। কিন্তু সিন্ডিকেটে তা পাস হয়নি। তিনি বারবার মিথ্যাচার করে চলেছেন। বুয়েটের উপাচার্য এবং উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী চলমান আন্দোলনের এই নেতা আরও বলেন, এরআগেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেটি উপাচার্যের পছন্দের লোক দিয়ে ভুয়া প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়েছে। তদন্তের নামে তখনও সময় নষ্ট করা হয়েছে। আবার একটি তদন্ত করার নামে উপাচার্য আরও কালক্ষেপণ করতে চান। স্বপদে বহাল পদে থাকতে উপাচার্যের এটি একটি অপকৌশল বলে দাবি করেন অধ্যাপক মুজিবুর।
তিনি জানান, এই উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে আমরা অনেক সময় দিয়েছি। কিন্তু দেশের এই নাম করা  প্রতিষ্ঠানটিতে নানা অনিয়ম করা হয়েছে। এখন সর্বস্তরের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারী সারা রাত আন্দোলেন অংশগ্রহণ করেছেন। পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।

উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য অপসারণের দাবিতে বুধবার এরইমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ জন র্নিবাচিত ডিন, ৩ জন ইনস্টিটিউট পরিচালক এবং ১৫ জন বিভাগীয় প্রধান পদত্যাগ করেছেন।
বুধবার সারা রাত কাউন্সিল ভবনের সামনে অবস্থান করা তড়ি‍ৎ কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, আমরা চাই বুয়েটে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ। আমরা ক্লাসে ফিরতে চাই। বুয়েটে কোন রাজনীতি ছিল না। এখন নোংরা রাজনীতি চলছে। সে জন্য আমরা নৈতিকভাবে শিক্ষকদের সঙ্গে এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছি।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে বুয়েট বন্ধ থাকায় তাদের ক্লাস-পরীক্ষা সময়মতো না হওয়ায় ভয়াবহ সেশনজটের ফাঁদে পড়ছেন তারা।
মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১১ জুলাই থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন ছুটি এগিয়ে এনে বুয়েট বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এর আগেই উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১৪ জুলাই থেকে লাগাতার কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষক সমিতির নেতারা।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বর্ষায় গ্রীষ্মকালীন ‘হাস্যকর’ অবকাশ দিয়ে প্রশাসন আমাদের শিক্ষাজীবন নিয়ে হাসিঠাট্টা শুরু করে আমাদের সুন্দর ভবিষতকে অন্ধকারময় করে তোলার চেষ্টা করছে।
বুয়েটের দীর্ঘ দিনের সুনাম রক্ষার্থে তাদের আন্দোলনে যোগ দেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না বলে দাবি করেন তারা। ৫৯ জন সিনিয়র শিক্ষককে ডিঙ্গিয়ে উপ-উপাচার্য নিয়োগসহ বিভিন্ন অনিয়মে গত ৭ এপ্রিল থেকে টানা ২৮ দিন কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষকরা। পরে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে কর্মবিরতি স্থগিত করেন তারা।বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষক সমিতির অভিযোগ ঠিক নয়। কমিটির প্রতিবেদন প্রত্যাখান করে শিক্ষকরা।


(আপনার মোবাইল নম্বরটি অপ্রকাশিত থাকবে)


(আপনার ইমেইল এ্যাড্রেসটি গোপন রাখা হবে)


(বাংলায় মন্তব্য লিখতে ইউনিকোড বাংলা সফ্‌টওয়্যার ব্যবহার করুন)

পাতার শুরুতে