,

পরিশুদ্ধ জীবনযাপনে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হওয়ার সূবর্ণ সুযোগ শবে বরাত - অধ্যক্ষ ছৈয়্যদ মুনির উল্লাহ্

পরিশুদ্ধ জীবনযাপনে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হওয়ার সূবর্ণ সুযোগ শবে বরাত - অধ্যক্ষ ছৈয়্যদ মুনির উল্লাহ্চট্টগ্রামের কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের মোর্শেদে আজম আওলাদে রাসূল হযরতুলহাজ্ব অধ্যক্ষ আল্লামা ছৈয়্যদ মুহাম্মদ মুনির উল্লাহ্ আহ্মদী মাদ্দাজিলুহুল আলী বলেছেন, শবে বরাত মানুষের মধ্যে শুভবোধের উম্মেষ ঘটায়, শুভচিন্তা ও সৎকর্মের আদর্শে মানুষকে নতুন করে উজ্জীবিত করে। পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের জন্য দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হওয়ার সূবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে। কেননা অতি বরকতময় বরাতের এ রাতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য উম্মুক্ত করে দেন রহমত ও দয়ার ভান্ডার। আর আল্লাহর অসীম এই করণা পেতে হলে অতীতের সকল ভুলের জন্য খাঁটি অন্তরে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। আর এক্ষেত্রে আত্মশুদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে পরিশুদ্ধ জীবনের অধিকারী আলোকিত মানুষ গঠনে খলিফায়ে রাসূল (দঃ) কাগতিয়ার গাউছুল প্রতিষ্ঠিত এ দরবারের আধ্যাত্মিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত কার্যকরী ও ফলপ্রসু ভূমিকা রেখে চলেছে।
তিনি গত ৫ জুলাই বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম রাউজান কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের ৫৯তম পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে শবে বরাতের ফজিলত ও করণীয় শীর্ষক সেমিনার ও মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমানের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ তকরির রাখছিলেন। মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ এর উদ্যোগে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে ছিল বাদে জোহর খতমে কোরআন ও আলোচনা সভা, বাদে আছর ও মাগরিব যথাক্রমে ফয়েজে কোরআন ও তাওয়াজ্জুহ্র মাধ্যমে নূরে কোরআন ও নূরে মুহাম্মদী বিতরণের ব্যবস্থাপনা, বাদে এশা মোর্শেদে আজমের তকরির, মিলাদ-ক্বিয়াম ও আখেরী মুনাজাত।
তিনি আরও বলেন, সমস্ত অন্যায় ও পাপকাজ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা এবং সর্বদা সত্য ও ন্যায়ের দিকে অবিচল থাকতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করার রাত হচ্ছে শবে বরাত। এ রাতে আল্লাহপাক ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা ও বিপথগামীদেরকে উত্তরণের পথ দেখান। তাই সকলের উচিত শবে বরাতের তাৎপর্য অনুধাবন করে বাস্তবজীবনের সর্বক্ষেত্রে অন্যায় পরিহার ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হওয়া।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আবুল মনছুর এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের ওলামা পরিষদের সচিব মুফতি মুহাম্মদ ইব্রাহিম হানফি, উপাধ্যক্ষ মুহাম্মদ  বদিউল আলম আহমদী, আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ আনোয়ারুল আলম ছিদ্দিকি, আল্লামা মুহাম্মদ  আশেকুর রহমান, আল্লামা মুহাম্মদ  ফোরকান, মাওলানা মুহাম্মদ সেকান্দর আলী ও মাওলানা মুহাম্মদ শাহাজাহান নোমান। প্রতি বছরের  মতো এ বছরও এসব কর্মসূচীতে অংশ নিতে দুপুর থেকেই চট্টগ্রামসহ দেশের দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার সুন্নি জনতা অনুষ্ঠানস্থল কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফে জমায়েত হতে শুরু করে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে মাগরিবের আগেই দরবার শরীফসহ এর আশে-পাশের এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
মিলাদ-কিয়াম শেষে হুজুর ক্বেবলা দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং দরবারের প্রতিষ্ঠাতা কাগতিয়ার গাউছুল আজমের আশু রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন।


(আপনার মোবাইল নম্বরটি অপ্রকাশিত থাকবে)


(আপনার ইমেইল এ্যাড্রেসটি গোপন রাখা হবে)


(বাংলায় মন্তব্য লিখতে ইউনিকোড বাংলা সফ্‌টওয়্যার ব্যবহার করুন)

পাতার শুরুতে