সিদ্ধান্ত ঠিক আছে- জিম ইয়ং কিম
বিশেষ প্রতিনিধিঃ দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মাসেতু প্রকাল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত সমর্থন করেছেন বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। আজ সকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে গণমাধ্যমের সামনে তিনি এ সমর্থনের ।
কিম বলেছেন, “আমি মনে করি, ওই সিদ্ধান্ত ঠিক আছে,”বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষের মঙ্গলের বিষয়ে আমরা খুবই সজাগ। কিন্তু আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে যে বিশ্ব ব্যাংক কখনোই দুর্নীতিকে প্রশয় দেয় না”, ”আমি গভীরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি। সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পদ্মাসেতুর ঋণ বাতিলের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমাকে বিস্তারিত জানিয়েছেন।
জিম কিমের পূর্বসূরী রবার্ট জেলিকের শেষ কর্মদিবসে গত শুক্রবার পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করার কথা জানায় বিশ্ব ব্যাংক।
২৯০ কোটি ডলারের এই প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকের সবচেয়ে বেশি ১২০ কোটি ডলার দেওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি এডিবি ৬১ কোটি, জাইকা ৪০ কোটি এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ১৪ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার জন্য সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে।
ঋণ বাতিলের কারণ হিসাবে বিশ্ব ব্যাংকের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের এই প্রকল্পে শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির ‘বিশ্বাসযোগ্য’ প্রমাণ মিলেছে। আর এর তদন্তে বাংলাদেশ সরকারের ইতিবাচক সাড়া না মেলায় তারা প্রকল্পে অর্থায়ন বাতিল করছে।
অবশ্য ব্যবসা-বাণিজ্যের খ্যাতনামা সাময়িকী ফোর্বসের চলতি সংখ্যায় এক প্রতিবেদনে বিশ্ব ব্যাংকের ‘ব্যাপক অনিয়মের’ কথা তুলে ধরে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী এ প্রতিষ্ঠানকে ‘সবচেয়ে অকার্যকর’ একটি হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্নীতি অনিয়মের জন্য প্রতিষ্ঠানটির সদ্য বিদায়ী প্রধান রবার্ট জেলিকের দিকেও অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।
বিশ্ব ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের জন্য সংস্থাটির বিদায়ী প্রেসিডেন্ট রবার্ট জেলিককে দায়ী করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও।
সোমবার জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই প্রকল্পে দেরির জন্য বিশ্ব ব্যাংককেই দায়ী করে তিনি বলেন, “সম্ভবত বিশ্ব ব্যাংকের বিদায়ী সভাপতি রবার্ট জেলিক তার মেয়াদকালে বিষয়টি সুরাহা করার উদ্দেশ্যে একটি অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে বিশেষভাবে বিপর্যস্ত করেছে। আমার বিশ্বাস বিশ্ব ব্যাংক সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করবে।”
মুহিত বলেন, “আমরা যে কোনো মুহূর্তে বিশ্ব ব্যাংকের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় লিপ্ত হব বলে আমি আশা রাখি। আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে এই অর্থবছরে আমরা পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করব, ইনশাল্লাহ।”
এর কয়েক ঘণ্টার মাথায় ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের কাছে জেলিকের সিদ্ধান্তের পক্ষেই কথা বলেন জিম ইয়ং কিম।











