কবীর সুমন, দীনেশ ত্রিবেদীর পর মমতার সঙ্গ ছাড়তে চলেছেন আরেক সাংসদ সোমেন মিত্র, জল্পনা তুঙ্গে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, তৃণমূল দলে বিদ্রোহের সুর ততই চড়া হচ্ছে। আর সেটা হচ্ছে প্রকাশ্যেই দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে। দলের ভিতরে বিদ্রোহের শুরু করেছিলেন প্রথমে যাদবপুরের সাংসদ কবীর সুমন। সেই থেকে কবীর সুমনের সাথে তৃনমুলের কোন যোগাযোগ আর নেই। ফলে কবীর সুমন মাঝেমাঝেই তৃনমুলের ও দলনেত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র বিষোদ্গার করে থাকেন। তৃনমুল না চাইলেও কবীর সুমন প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রনব মুখার্জীকে সমর্থন করবেন।অপরদিকে বারাকপুরের সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীকে রেলমন্ত্রী থেকে সরিয়ে দেবার পর থেকে তিনিও নিয়মিত দলের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। এখন আর সেভাবে দলের সাথে তার কোন যোগাযোগ নেই। তিনি মাঝেমাঝেই দলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ জানান বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে। সম্প্রতি দীনেশ ত্রিবেদীও জানিয়ে দিয়েছেন, মমতা ব্যানার্জী যাই বলুন না কেন, তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রনব মুখার্জীকেই সমর্থন করবেন।
এদিকে বেশ কিছুদিন ধরেই তৃনমুল দলের সাথে দুরত্ব বাড়ছিল ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ সোমেন মিত্রের। গতকাল রবিবার রাজ্যের প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের জন্ম ও মৃত্যুদিন পালনের মঞ্চে সেই দুরত্ব আরো বেড়ে গেল। গতকাল কংগ্রেস দপ্তরে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠান মঞ্চে সাংসদ সোমেন মিত্রের স্ত্রী এবং চৌরঙ্গী কেন্দ্রের বিধায়ক শিখা মিত্র রাজ্য সরকার, মুখ্যমন্ত্রী এবং দলের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন। মুখ্যমন্ত্রী তথা দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জীকে হুশিয়ারী দিয়ে জানালেন, ”চেয়ারে বসে টাকা নেই, টাকা নেই বললে চলবে না! কাজ করে দেখাতে হবে! গোষ্ঠী কোন্দলে দল জেরবার হয়ে গিয়েছে। এই দলে আমার কোন কথা বলার যায়গা নেই। জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি কোনও কাজ করতে পারছি না। কারো স্তাবকতা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।” প্রকাশ্যে তিনি এমন কথাও বলেছেন, ”মানুষই এর বিচার করবেন। মনে হলে আপনারা এদের ছুড়ে ফেলে দিন।” রাষ্ট্রপতি পদে প্রণব মুখার্জীই যোগ্যতম প্রার্থী বলে তাঁকে ব্যক্তিগত ভাবে সমর্থন করেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন শিখা মিত্র। তিনি বলেছেন, ”ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করি, প্রণববাবুই যোগ্য প্রার্থী।” যদিও তিনি বলেছেন, ”দল যা বলবে, তা-ই করব। দলে না থাকলে তখন নিজের মত জানাতে পারব।” আর শিখা মিত্র যখন এইসব কথা বলছেন, তখন তার পাশে বসে রয়েছেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ ও তার স্বামী সোমেন মিত্র।
শিখা মিত্রের এইদিনের বক্তব্যের পরে স্বভাবতই তৃণমূলে সোমেন মিত্র আর শিখা মিত্রের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। তৃনমুল দল তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে চলেছে তৃণমূলের মহাসচিব ও পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য থেকে তা পরিস্কার। তৃণমূল সূত্রের খবর, দু’এক দিনের মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে চলেছে দল।
কিন্তু ক্ষমতায় আসার মাত্র এক বছরের মধ্যে ১৮ জনের মধ্যে পরপর তিনজন সাংসদ যদি দল ছাড়েন, তাহলে সেটা দলের পক্ষে ভালো হবে না সেটা বুঝতে পারছেন দলের নেতারা। কিন্তু তারা আরো যেটা ভাবছেন তা হল, ভিতরে ভিতরে আরো কোন সাংসদ বিদ্রোহীদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন কিনা। ইতিমধ্যেই রানাঘাট কেন্দ্রের সাংসদ সুচারু হালদার, এবং সারা রাজ্যের বেশ কিছু বিধায়ক বিদ্রোহী হচ্ছেন সেটা টের পাচ্ছেন দলের নেতারা। ফলে অদূর ভবিষ্যতে তৃনমুল দলে ভাঙ্গন দেখা দিলে তাতে অবাক হবার কিছু নেই।
দীপক রায়, কলকাতা থেকে ।











