,

অত্র জেলা উপজেলার দরিদ্র কৃষকেরা হতাশ ও শংকিত : আমন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশংকা

মোঃ আব্বাস উদ্দিন, শেরপুর প্রতিনিধি :  শেরপুর জেলায় দীর্ঘ দিন বৃষ্টির অভাবে রোপা আমন ফসলের বীজ তলার চারা উৎপাদন করতে না পাড়ায় আমন উৎপাদন হুমকির মুখে। কারন আমন ফসলের বীজ (চারা) উৎপাদনের সঠিক সময় হলো জ্যাষ্ঠি মাসের মধ্যে। কিন্তু পুরো জ্যাষ্ঠি মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও বৃষ্টির অভাবে এখন পর্যন্ত কৃষকেরা আমন বীজ (চারা) উৎপাদন করতে পারেনি। যে কারনে অত্র জেলায় এ বছর আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার্জিত না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য শেরপুর জেলা ও উপজেলা গুলি কৃষিজাত ফসল উৎপাদন করে প্রায় সিংহভাগ কৃষি পরিবার জীবন-যাপন চালায়। উঠতি বোরো ফসল উৎপাদন করে লাভের পরিবর্তে লোকসান গুনতে হচ্ছে। কিন্তু দরিদ্র কৃষকের উপায় না থাকায় চাষাবাদ করতেই হয়। পরিবার পরিজনের জীবন বাঁচাতে বিকল্প পথ না থাকায় কৃষিই একমাত্র অবলম্বন। লাভ বা লোকসানের হিসাব মেলাতে গেলে জীবন একেবাড়েই অচল হয়ে যাবে। সেই ক্ষেত্রে লাভ কিংবা লোকসানের হিসাব বাদ দিয়ে হলেও উৎপাদন করতেই হয়। কিন্তু চলতি ফসলের লোকসানের ঋন শেষ হতে না হতেই প্রকৃতি যেন বাম সেজে বসেছে। যেহেতু অত্র জেলার সিংহভাগ লোকই প্রধান উৎপাদনের উৎস ধান, পাট ও নানা জাতের শাকসব্জি। সিংহভাগ লোকের অন্য কোন আয়ের উৎস না থাকায় কৃষির প্রধান ফসল তাদের নির্ভরযোগ্য ফসলি হলো ধান। যেহেতু আমন উৎপাদন করতে কৃষকের খরচ কিছুটা কম হয়। সে জন্যই অত্র জেলা উপজেলার আমন চাষের উপড় নির্ভরশীল। উল্লেখ্য রোপা আমন চাষের জন্য বীজতলায় আমন বীজ বপন করার উপযুক্ত সময় অতি বাহিত হতে চলছে অথচ গত ১মাস যাবৎ বৃষ্টি না থাকায় দরিদ্র কৃষক ও প্রান্তিক চাষীরা দিশেহাড়া হয়ে পড়েছে । এতে দরিদ্র কৃষক ও প্রান্তিক চাষীদের মাঝে উৎকন্ঠা আর শংকার মধ্য দিয়ে দিন গুলি অতিবাহিত করছে। যদি আগাম ফসল রোপা আমন দরিদ্র কৃষকেরা  উৎপাদন করতে না পারে তাহলে কোন ভাবেই তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে  রাখতে পারবে না। কারন আমন উৎপাদন করতে রোপা উৎপাদনের চেয়ে অনেক কম হয়। যেহেতু আমন চাষ করতে অতিরিক্ত সেচ খরচ কিংবা পরিচর্যার খরচ বোরো উৎপাদনের মত ব্যয করতে হয় না। সেহেতু অতি অল্প খরচে দরিদ্র কৃষকেরা আমন ফসল উৎপাদন করতে পারে। তাই দরিদ্র কৃষকেরা আমন ফসল দিয়ে তাদের কিছু চাহিদা পূর্ণকরে থাকে। কিন্তু যদি আমন ফসল বৃষ্টির অভাবে উৎপাদন করতে না পারে তাহলে তাদের সামনে আর কোন বিকল্প পথই খোলা থাকবে না। তাই এমন আশংকায় অধীর হয়ে পড়েছে অত্র জেলা উপজেলার দরিদ্র কৃষকরা। বিগত সময়ের উৎপাদন প্রায় সকল কৃষি ফসল উৎপাদন করে শুধু লাভের আসায় লোকসানের পাল্লা ভারি করেছে। এখন যদি চলতি আমন ফসল বৃষ্টির কারনে উৎপাদন ব্যাহত হয় তাহলে কোন ভাবেই অত্র জেলা উপজেলা  দরিদ্র কৃষকেরা তাদের অস্তিত্ব ধরে রাখতে পারবে না। কৃষিপন্য উৎপাদন করে লোকসান ও ঋনের বোঝা ভারি করেছে। এরপর  কিছু লাভের সম্ভাবনাময় রোপা আমন বৃষ্টির অভাবে উৎপাদন করতে না পারে তাহলে দরিদ্র চাষীদের ভাগ্যে ভবিৎষতে কি অপেক্ষা করছে কে জানে। দিন দিন অনিশ্চিৎ অন্ধকারের দিকে যে পথ চলছে। এখানকার হতদরিদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের ভাগ্য উন্নয়নে সরকারি ভাবে সার্বিক সহযোগীতা ও ঋনগ্রস্ত কৃষকের ঋন মওকুফ সুবিধাসহ উৎপাদনে উৎসাহী করা জরুরী প্রয়োজন বলে বিজ্ঞ মহলের দাবী। প্রকাম থাকে যে, অত্র জেলা ও উপজেলার কৃষকেরা যে সমস্ত এলাকায় পানি সংকট ঐ সমস্ত এলাকায় বোর চাষ করা সম্ভব হয় না। ঐ সমস্ত জমিতে বোরো চাষের পরিবর্তে রোপা আউস চাষ করে থাকে দরিদ্র কৃষকেরা। শেরপুর জেলায় ৩/৪  উপজেলার উচু ভূমিতে সেচ ব্যবস্থা না থাকায় কিংবা পানি সংকটের কারনে বোরো চাষ করা সম্ভব হয় না। উক্ত ভূমি গুলিতে বৃষ্টির পানি দিয়ে আউস রোপা ধান কৃষকেরা আবাদ করে থাকে।  কিন্তু এ বছরে ঐ সমস্ত এলাকায় বৃষ্টির পানির অভাবে আউস রোপা ধান কৃষকেরা আবাদ করতে পারে নাই। ফলে অনেক কৃষক হতাশ ও অভাব গ্রস্তের মধ্যে পড়ছে। যেহেতু ওই সমস্ত কৃষকেরা পানি সংকটের কারনে বা সেচ ব্যবস্থা না থাকায় বোরো চাষ করতে পারে নাই।


(আপনার মোবাইল নম্বরটি অপ্রকাশিত থাকবে)


(আপনার ইমেইল এ্যাড্রেসটি গোপন রাখা হবে)


(বাংলায় মন্তব্য লিখতে ইউনিকোড বাংলা সফ্‌টওয়্যার ব্যবহার করুন)

পাতার শুরুতে