,

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে ছাত্রলীগের ধর্মঘট চলছে :ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ

শাহ আলম উজ্জ্বল,ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ ছাত্র সংসদ (মমেসু) নির্বাচনের দাবিতে ছাত্রলীগের ডাকে অনিদির্ষ্টকালের ধর্মঘট চলছে। বুধবার ধর্মঘট চলাকালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দ্বিতীয় দফা কলেজের প্রশাসনিক ভবনে ভাঙচুর করেছে। এসময় ছাত্রলীগ বিক্ষোভ মিছিল করে ক্যাম্পাসের সড়কে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং কলেজের প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ দুপুরে কলেজ কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক আহবান করে। কিন্তু ছাত্রলীগের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়ে যায়।

এদিকে প্রধান ফটকসহ সবকটি গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়ায় রোগী, ডাক্তার ও কর্মচারীরা বিপাকে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা। হাসপাতাল থেকে টেষ্টের জন্য কলেজের প্যাথলজী ল্যাবে পাঠানো হলেও তারা গেটে তালা মারা থাকায় ও ছাত্রলীগের বাঁধার কারনে ঢুকতে পারছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আগামী ১৮ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষপাতমুলক আচরণ ও আট দফা না মানায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নির্বাচন বর্জন করে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন সোমবার সন্ধ্যায় নির্বাচন স্থগিত ঘোষনা করেন। ছাত্রলীগ অবিলম্বে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবিতে বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ছাত্রলীগ বুধবার ক্যাম্পাসে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিলের এক পর্যায়ে রাস্তায় টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে। এক পর্যায়ে কলেজের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কলেজ কাউন্সিলের জরুরি সভায় হামলা চালায় এবং ব্যাপক ভাঙচুর করে। ছাত্রলীগের দাবি নির্বাচন ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মতিউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, কলেজ কাউন্সিলের সভায় সমস্যা সমাধানে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু সভা শেষ হবার আগেই উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী সম্মেলন কক্ষে ঢুকে পড়ে এবং ‘সিদ্ধান্ত মানি না মানব না’ বলে শ্লোগান দিয়ে ভাংচুর শুরু করে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সভা শেষ করা হয়।

এদিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিত কিংবা নুতন করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা নিয়ে কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি সাধারন শিক্ষার্থীদের মধ্যে। এমনকি এ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গেছে ছাত্রলীগ। হাতে গুনা ১৫-২০ নেতা কর্মী ছাড়া ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মীকে আন্দোলনে দেখা যায়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, আগামী ১ জুলাই থেকে তিনটি ব্যাচের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এনিয়ে ব্যন্ত শিক্ষার্থীরা। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, ছাত্র সংসদের ফান্ডেÐ থাকা মোটা অঙ্কের অর্থ লুটপাট করতেই ছাত্রলীগের একটি অংশ একতরফা নির্বাচনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর তাতে পরোক্ষভাবে মদদ দিচ্ছেন বিএমএ’র এক নেতা।

 অপরদিকে ছাত্রলীগের চলমান এই আন্দোলনের কারনে বুধবার থেকে জিম্মি হয়ে পড়েছে হাসপাতাল থেকে কলেজ ল্যাবে পরীক্ষা করাতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরা। অভিযোগ সবকটি গেটে তালা লাগিয়ে দেয়ায় কোনো রোগীই কলেজের ল্যাবে পরীক্ষা করাতে পারেনি। নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা থানার বীরমুক্তিযোদ্ধা নুর আহম্মেদ (৬০) অভিযোগ করেন, ডাক্তারের পরামর্শে গত ১১ জুন কলেজ ল্যাবে পরীক্ষার জন্য রক্ত দিয়ে গেছেন। গতকাল রিপোর্ট নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু কলেজে তালা লাগানো থাকায় তিনি ভেতরেই ঢুকতে পারেননি।


(আপনার মোবাইল নম্বরটি অপ্রকাশিত থাকবে)


(আপনার ইমেইল এ্যাড্রেসটি গোপন রাখা হবে)


(বাংলায় মন্তব্য লিখতে ইউনিকোড বাংলা সফ্‌টওয়্যার ব্যবহার করুন)

পাতার শুরুতে