সড়ক ভবনে গুলি আহত ৫
বিএনবি নিউজ ডেস্কঃ যোগাযোগ প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সড়ক ভবনে টেন্ডার ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। সড়ক ও জনপথের (সওজ) অফিস সহকারী ও শ্রমিক লীগ নেতা খন্দকার কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয় বলে গুলিবিদ্ধ কয়েকজন অভিযোগ করেছেন। রাজধানীর রমনা পার্ক এলাকায়, শাহবাগ থানার কাছেই অবস্থিত সড়ক ভবনে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।দিনদুপুরে প্রকাশ্যে কমান্ড স্টাইলে ক্ষমতাসীনদের গোলাগুলির ঘটনায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ঘটনা তদন্তে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিক্রয় ও বিপণন শাখা স্থানান্তর করা নিয়ে বিরোধ এবং মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগের হেমায়েতপুর-সিঙ্গাইর সড়কে সেতু নির্মাণে (পিসি গার্ডার) প্রায় ১২ কোটি টাকার টেন্ডার ভাগাভাগি নিয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। গুলিবিদ্ধরা হলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক শামীম শাহরিয়ার (৪৭), মশিউর রহমান রাজেশ (৩২), তৌহিদুল ইসলাম (৩৮), রিপন (৩৪) ও সওজের গাড়িচালক মো. জাকির হোসেন (৪০)। শামীমের ডান পায়ে দুটি, রিপনের হাতে, রাজেশের কোমরে ও তৌহিদুলের মাথায় এবং জাকিরের ডান পায়ে একটি করে গুলি লাগে। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সড়ক ভবনের কাজ সমানভাবে ভাগ করে দেওয়ার দাবিতে ঠিকাদারদের একটি অংশ গতকাল দুপুরে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে স্মারকলিপি দেয়। পরে তারা ক্যান্টিনে বসে গল্প করছিলেন। বিকালে শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের নেতা কামাল ও রফিকের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল সিলভার কালারের একটি প্রাইভেটকার, একটি মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে সড়ক ভবনে আসেন। তারা গুলি করতে করতে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং ঠিকাদারদের খুঁজতে থাকেন। স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শামীম শাহরিয়ার বলেন, ‘আমরা সড়ক ভবনের ভেতরে ছিলাম। হঠাৎ এলোপাতাড়ি ৩০-৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এর দুটি আমার পায়ে লাগে।’
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ঠিকাদার ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (উত্তর) সাবেক সহ-সভাপতি শেখ গোলাম আযম মামুন বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি, হামলাকারীদের সবাই তেজগাঁওয়ের এলেনবাড়ির। এদের নামে আমরা শাহবাগ থানায় আগেই একটি মামলা করেছিলাম। মামলা নম্বর ৩৯।’ তিনি বলেন, ‘সওজের অফিস সহকারী খন্দকার কামাল উদ্দিন সন্ত্রাসীদের নিয়ে এ হামলা চালিয়েছেন। তিনি এখানে চাকরি করার পাশাপাশি ঠিকাদারি করেন। ঢাকায় তার আট-দশটি বাড়িও রয়েছে।’ হামলায় ‘মাস্তান’ রফিকসহ কয়েকজন অংশ নেয় বলে তিনি জানান। একটি সূত্র জানায়, সেন্টু ও শামীমের নেতৃত্বে ঠিকাদারদের একটি অংশের সঙ্গে শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার কামাল উদ্দিনের দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত ৩ জুন সেন্টু ও শামীম গ্রুপ কামাল উদ্দিনকে প্রকাশ্যে কান ধরিয়ে ওঠবস করায়। একপর্যায়ে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে সড়ক ভবন থেকে বের করে দেয়। সেই ক্ষোভেই কামাল উদ্দিন বহিরাগতদের নিয়ে শামীম ও তার অনুসারীদের ওপর হামলা চালান। প্রত্যক্ষদর্শী ঠিকাদার কাজী মাসুমুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘৩ জুন সড়ক ভবনের শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে ঠিকাদারদের তর্ক-বিতর্ক হয়। সড়ক ভবনের একটি বিভাগ সেখানেই থাকবে কি না তা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। এ ছাড়া টেন্ডার নিয়েও শ্রমিক লীগ নেতা ও ঠিকাদারদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-পরিচালক (নিরাপত্তা) চৌধুরী রুহুল আমিন বিএনবি নিউজকে বলেন, ‘সড়ক ও জনপথ বিভাগের হাইকোর্ট সংলগ্ন অফিসের বিক্রয় ও গ্রহণ শাখা তেজগাঁওয়ের এলেনবাড়ি অফিসে স্থানান্তর নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।’ শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বিএনবি নিউজকে জানান, খবর পেয়েই পুলিশ ও র্যাবের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে যায়। রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলা হয়নি। তবে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। পুলিশ তদন্তপূর্বক দোষীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।











