চলছে ধরপাকড়, বরিশালে লঞ্চ ও বগুড়ায় বাস বন্ধ
বিএনবি নিউজ ডেস্কঃ নয়াপল্টনের আজকের সমাবেশকে বাধাগ্রস্থ করতে সরকারের মদদে সারাদেশে পুলিশ ১৮ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড় শুরু করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বিএনপির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকাসহ সারাদেশে তাদের শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ সোমবার নয়া পল্টনে জনসভা করবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। এতে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার কথা রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “আওয়ামী লীগ সরকার তাদের চিরাচরিত ফ্যাসিস্ট কায়দায় ১২ মার্চের মতো এবারও ঢাকার সমাবেশকে বাধা প্রদান এবং সমাবেশস্থলে বিপুল লোক সমাগম ব্যাহত করতে নানামুখী ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।”
ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে তল্লাসির নামে হয়রানি এবং ঢাকা অভিমুখে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড দিয়ে গাড়িতে তল্লাশি হচ্ছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। গ্রেপ্তার অভিযানের নিন্দা জানিয়ে তাদের মুক্তি দাবি করেছে বিএনপি। বিবৃতিতে গ্রেপ্তারের একটি তালিকা দিয়ে বলা হয়, এটি অসম্পূর্ণ তালিকা। সারাদেশ থেকে গ্রেপ্তারের আরো খবর আসছে।
ঢাকায় গ্রেপ্তার: যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম জিলানী, স্বেচছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহবায়ক আবু জাফর পাটোয়ারী বাবু, হারুন-অর রশীদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাসুম বিল্লাহ খান, জাসাস নিউ মার্কেট থানার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ হৃদয়, দক্ষিণ খান ইউনিয়ন সভাপতি মোহাম্মদ বাদশা প্রমুখ।
খুলনায় গ্রেপ্তার: জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম ফরিদ, ডুমুরিয়া থানা যুবদল নেতা সহিকুল ইসলাম লাচ্ছু, শ্রমিক দল নেতা তালেব, মহানগর সভাপতি আরব আলী সহ ২৮ জন।
গাজীপুরে গ্রেপ্তার: ওলামা দলের কাপাসিয়া থানার টোক ইউনিয়ন সভাপতি ইসমাইল হোসেনসহ ৪৫ জন।
ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ করায় সোমবারের মহাসমাবেশে যেতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন বগুড়ার বিএনপি নেতাকর্মীরা। রোববার বিকাল ৩টার দিকে বগুড়া মটর শ্রমিক ইউনিয়ন কাউন্টারগুলোতে ঢাকাগামী সব কোচ ও বাসের টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দেয়।
জেলা বিএনপির উপদেষ্টা জানে আলম খোকা বিএনবি নিউজকে বলেন, বগুড়া থেকে ঢাকার বাস চলাচল বন্ধ করায় হাজার হাজার নেতাকর্মী মহাসমাবেশে যোগ দিতে পারবে না। তবে এরইমধ্যে অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে ঢাকায় চলে গেছেন বলে জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কাউন্টার ম্যানেজার বলেন, রাস্তায় গাড়ি নামালে ভাংচুরের হুমকি দেন মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল লতিফ মণ্ডল। তাই মালিকরা ভয়ে চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
এদিকে সুনির্দিষ্ট কারন ছাড়াই হঠাৎ করেই বরিশাল-ঢাকা নৌ ও সড়ক পথে সকল ধরনের যাত্রীবাহী যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের আশংকার অজুহাতে শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী লঞ্চ বন্ধ ঘোষণা করে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। সন্ধ্যা নাগাদ নিরাপত্তার কথা বলে লঞ্চগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। অথচ আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে ঘূর্নিঝড়ের কোন প্রকার সংকেত তাদের জানা নেই।
ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে বরিশাল নৌ বন্দরে আসা যাত্রীরা অভিযোগ করেন বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের দ্বন্দ্বের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।লঞ্চ কর্তৃপক্ষ কারণ বলতে না পারলেও ক্ষুব্ধ যাত্রীরা জানান, সোমবার রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশের রয়েছে, তাই লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর আগেও গত ১২ মার্চ বিএনপির ঢাকা চল কর্মসূচির আগে সারা দেশ থেকে ঢাকাগামী বাস ও নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো বলে এ সময় অভিযোগ করেন তারা।
পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে যাত্রীরা বলেন, লঞ্চঘাট থেকে যাত্রীদের জোরপূর্বক বন্দরের বাইরে বের করে দিয়ে কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেয় পুলিশ।বরিশাল নৌ বন্দরের সহকারী নৌ-কর্মকর্তা বশির আলী খান বলেন, লঞ্চ বন্ধের বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের কোন নির্দেশনা নেই। পুলিশ লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শামসুদ্দিন বলেন, হঠাৎ করে লঞ্চ বন্ধের কারন তারও জানা নেই। এদিকে, সন্ধ্যার পরে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে কোন বাস ছেড়ে যায়নি। বাস কাউন্টার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাস না চালানোর জন্য শ্রমিক ইউনিয়নের নির্দেশ রয়েছে।
কেন বাস চলাচল বন্ধ করা হয়েছে তার কিছুই জানেন না বলে দাবী করেছেন বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন।
বরিশাল জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ব্যস্ততার অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান। অন্য দিকে লঞ্চ-বাস কিছুই না ছাড়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারন যাত্রীদের।











