,

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ভেঙ্গে ৫০ গ্রাম প্লাবিত : অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন, চিংড়ী ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ভেঙ্গে ৫০ গ্রাম প্লাবিত : অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন, চিংড়ী ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসুনীল দাস, বাগেরহাট থেকে : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ভেঙ্গে অন্ততঃ ৫০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গত পাঁচ দিনে পানগুছি নদীর জোয়ারের প্রবল চাপে মোরেলগঞ্জ-শরনখোলা সড়কের গাবতলা নামক স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ও রাস্তাসহ ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে এলাকার অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। মোরেলগঞ্জ, সন্ন্যাসী ও শরনখোলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এলাকার গ্রামগুলির পাঁচ শতাধিক মৎস্য ঘের ও ফসলের ক্ষেত ভেসে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বাঁধ ভেঙ্গে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড বা স্থানীয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। ফলে মোরেলগঞ্জ পৌরসভাসহ এলাকার পাঁচটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ চরম দূর্ভোগের মধ্যে পড়েছে।
রবিবার সরেজমিন ভাঙ্গন কবলিত এলাা ঘুরে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, মোরেলগঞ্জ উপজেলার বহরবুনিয়া-পঞ্চকরন থেকে সন্ন্যাসী হয়ে শরনখোলার বগী পর্যন্ত পানগুছি ও বলেশ্বর নদীর তীর বরাবর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রন বাঁধ রয়েছে। এ বাধের মোরেলগঞ্জের সদর ইউনিয়নের গাবতলা এলাকায় গত কয়েক দিনের জোয়ারের প্রবল পানির তোড়ে প্রায এক কিলোমিটার রাস্তাসহ বাঁধ ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বাধের ভাঙ্গ অংশ দিয়ে প্রবল বেগে নদীর পানি সদর ইউনিয়নের সরালিয়া, গাবতলী, পশ্চিম সরালিয়া, কাঠালতলা, খাউলিয়া ইউনিয়নের আমতলা, খাউলিয়া, বানিয়াখালী, পশারিয়া এলাকা, পঞ্চকরন ইউনিয়নের কুমারিয়াজোলা, পঞ্চকরন, ফুলহাতা, বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ছাপড়াখালী, বহরবুনিয়া, বারুইখালী, উত্তরসুতালড়ী, তেতুলবাড়িয়া, শেখপাড়া, হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের বড় বাদুরা, শুভরাজকাঠি, ছোট বাদুরা গ্রামসহ অন্ততঃ ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া পানগুছির উপচে পড়া পানিতে উপজেলা শহরের অফিসপাড়া, পুরাতন থানা, কাঠপট্টি, কাপুড়িয়া পট্টি, পৌরপার্ক রোড, লঞ্চ টার্মিনাল রোড, বালিকা বিদ্যালয় রোড, এস.এ. কলেজ রোড, মেইন রোড, মাছবাজার রোড, কাঠালতলা, সোলমবাড়িয়া, সানকিভাঙ্গা এলাকাও প্লাবিত হয়েছে। গাবতলা এলাকার আঃ রাজ্জাক, আঃ গফফার ুসবেদার, কাঠালতলা গ্রামের খলিল শেখসহ অনেকে জানান, বাঁধ ভেঙ্গে পানিতে তাদের ঘরবাড়ী, ফসলের মাঠ, চিংড়ী ঘেরসহ সবকিছূই ডুবে গেছে। রাস্তাঘাটেও চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ঘরবাড়ীতে থাকতে না পেরে অনেকেই দূর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। এলাকার ৪০/৫০ গ্রামেপানি ঢুকে যাওয়ায় চরম দূর্দশার মধ্যে পড়েছেন। এ সকল গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ ছেলে-মেয়ে ও পরিবার পরিজন এবং গরু-ছাগল, হাস-মুরগী নিয়ে বন্দী অবস্থায় জীবন যাপন করছেন। বাঁধ ভেঙ্গে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তারা অবিযোগ করেন।
উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মোঃ ইয়াকিন আলী জানান, বাঁধ ভেঙ্গে পাচটি উপজেলার পাচ শতাধিক চিংড়ী ঘের ভেসে গেছে। এতে এলাকার চাষীদের কয়েক  লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। মোরেলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র এ্যাড. মনিরুল হক তালুকদার জানান, বাধ ভেঙ্গে চিংড়ী ঘের ভেসে গেছে, জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি দ্রুততার সাথে বাধ মেরামত করে এলাকার মানুষকে রক্ষা দাবী করেন। মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জোহর আলী জানান, গত কয়েকদিন ধরে পূর্নিমার জোয়ারের পানির চাপে মোরেলগঞ্জ-শরনখোলঅ সড়কের গাবতলা এলাকায় বিস্তীর্ন এলাকার বাঁধ ভেঙ্গে বিলীন হয়েছে। এর কারনে এলাকার কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থা ও ফসলের চরম ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়টি তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও পানিউন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদেরকে অবহিত করেছেন। ইতিমধ্যেই পানিউন্নয়ন বোর্ড একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়েছেন। দ্রুত এ বাধ পুননির্মান সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন। বাগেরহাটের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ খলিলুর রহমান জানান, পানগুছি নদীর তীরের মোরেলগঞ্জের খাউলিয়া ইউনিয়নের গাবতলা এলাকায় পানিউন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের আধা কিলোমিটারের বেশী এলাকা রাস্তাসহ ভেঙ্গে বিলীন হয়েছে। পানিউন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ভাঙ্গন এলাকা পরির্দশন করেছেন। এ অংশ মেরামত ও পুননির্মানের জন্য ১৮ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ প্রস্তাব অনুমোদন হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে দ্রুততার সাথে ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ ও রাস্তার পুনঃনির্মান করা সম্ভব হবে।


(আপনার মোবাইল নম্বরটি অপ্রকাশিত থাকবে)


(আপনার ইমেইল এ্যাড্রেসটি গোপন রাখা হবে)


(বাংলায় মন্তব্য লিখতে ইউনিকোড বাংলা সফ্‌টওয়্যার ব্যবহার করুন)

পাতার শুরুতে