হলুদ চাষীরা চাষ করে পড়েছে মহা বিপাকে হলুদ চাষীরা ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় অত্যান্ত ক্ষোব্দ
মোঃ আব্বাস উদ্দিন, শেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুর জেলার ও উপজেলার প্রায় অধিকাংশ পরিবার নানা জাতের কৃষিপন্য উৎপাদন করে থাকে। এবং উৎপাদিত কৃষিপন্যের লভ্যাংশ দিয়ে তাদের জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে একমাত্র অবলম্বন। তাই অত্র জেলার দরিদ্র কৃষক ও প্রান্তিক চাষীরা সারা বছরই বিভিন্ন জাতের কৃষি ফসল উৎপাদন করে তাদের জীবন-জীবিকা চালায়। কিন্তু গতদু’বছর যাবৎ দরিদ্র কৃষকেরা নানা জাতের কৃষিপন্য উৎপাদন করে লাভের পরিবর্তে লোকশান গুনতে হচ্ছে। উৎপাদন খরচ আগের চেয়ে প্রায় ২/৩ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ উৎপাদিত পন্য আরো কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। উল্লেখ্য মাঝে মাঝে কিছু কৃষিপন্য এতটাই নিম্ন দামে বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে যে লাভের পরিবর্তে লোকশান গুনতে হচ্ছে। এতে ক্ষুদ্র, দরিদ্র ও প্রান্তিক চাষীরা এতটাই কমমূল্যে কৃষিপন্য বিক্রি করতে হচ্ছে যে, তাদের খরচের অর্ধেক টাকাও তুলতে পারছে না। ফলে এই হতদরিদ্র চাষীরা উৎপাদিত ফসল বাজারে পানির দামে বিক্রি করে ঋনগ্রস্ত, অভাবী ও হতাশ হয়ে পড়ছে। প্রকাশ থাকে যে, গত বছর কিছু কিছু ফসল বিক্রি করে লোকশান হয়। উক্ত লোকশান থেকে কাটিয়ে এবছর অত্যান্ত চাহিদার মসলা জাতের ফসল হলুদ, আদা চাষ করে ব্যাপক আকারে। এই ফসল উৎপাদনের সময় ব্যাংক ঋন, মহাজনী ঋন ও এনজিও থেকে ঋন নিয়ে এই হলুদ আদা চাষ করে। কিন্তু অত্যান্ত দুঃক ও পরিতাপের বিষয় যে দরিদ্র চাষীদের ভাগ্যে যেন আরও বেশী বিপর্যয় নেমে এসেছে। মানে উৎপাদিত হলুদ আদা বাজারে পানির দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে দরিদ্র কৃষকের ঋনের বোঝা আরো বেড়ে যাওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ তাদের সামনে খোলা নেই। তাই দরিদ্র চাষীরা পড়েছে মাহা বিপাকে। অত্র শেরপুর জেলা ও উপজেলার কৃষকেরা দরিদ্রতার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার পথ যেমন খোলা নেই। তেমনি দরিদ্র কৃষকের নানা জাতের কৃষিপন্য উৎপাদনের উৎসাহ হাড়িয়ে ফেলতে যেন বাধ্য। পরিস্থিতি এতটাই প্রতিকূলে যে, দরিদ্র কৃষকেরা কৃষিপন্য উৎপাদন করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তাদের ন্যায্য ফসলের মূল্য পাচ্ছে না। এতে কৃষকেরা যেমন উৎপাদনে নিরুৎসাহীত হবে তেমনি বেকার হবে উৎপাদনে জরিত হাজার হাজার দরিদ্র শ্রমিক। বারবার দরিদ্র চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকলে তাদের পরিবারের লোকজন নিয়ে কিভাবে চলবে এ ভাবনার শেষ কোথায় ? বিগত সময়ের ঋনের বোঝা কমাতে এই জেলার উপজেলার দরিদ্র কৃষকেরা উদ্দ্যোগী হয়ে ব্যাপক ভাবে মসলা জাতের হলুদ আদা চাষ করেছে। ঝিনাইগাতী উপজেলার কৃষিজীবি দরিদ্র কৃষক ও প্রান্তিক চাষীরা নানা জাতের কৃষিপন্য উৎপাদন করে থাকে। উল্লেখ্য বিগত বছরে হলুদের দাম বৃদ্ধি থাকায় অত্র জেলার কৃষকেরা উৎসাহী হয়ে ব্যাংক ঋন নিয়ে মসলা জাতের কৃষিপন্য হলুদ ও আদার চাষ করেছে। কিন্তু বর্তমান বছরে দরিদ্র কৃষকের উৎপাদিত হলুদের মূল্য এতটাই নিম্নমূখী যে তাদের খরচের টাকাই তুলতে পারছে না। এতে দরিদ্র হলুদ চাষীদের হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য হলুদ উত্তোলন ও বাজারে বিক্রি করে যে টাকা ব্যয় হয় প্রতিমন হলুদের শ্রমিকের বেতন ও পরিবহন খরচ মেটাতেই উক্ত হলুদ বিক্রির টাকা ব্যয় হয়ে যায়। কিন্তু কৃষক যে ব্যাংক ঋন নিয়ে হলুদের চাষ করে ঋনগ্রস্ত হয়েছে উক্ত ব্যাংক ঋনের আসল সুদ পরিশোধ করবে কিভাবে? তাই ভেবে দিশকোল পাচ্ছে না। হতাশায় দরিদ্র হলুদ চাষীরা লাভের আশায় চাষ করে এখন লাভ তো দূরের কথা আসল টাকাই তুলতে পারছে না। প্রকাশ থাকে যে, শেরপুর জেলা ৫ টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। উক্ত ৫ টি উপজেলাতেই সকল প্রকারের কৃষি পন্য উৎপাদন হয়। জেলার বৃহত্তর জনগোষ্ঠী নানা জাতের কৃষিপন্য উৎপাদন করে জেলার চাহিদা পূরন করে দেশের অভ্যন্তরে চাহিদায় যুগান্তকারী অবদান রেখে আসছে। তাই উক্ত জেলার দরিদ্র চাষীদের কল্যানে সরকারের সহযোগীতা অত্যান্ত জরুরী দরকার। নচেৎ দরিদ্র কৃষকেরা দরিদ্র থেকে আরো দরিদ্র ও ঋনগ্রস্ত হয়ে উৎপাদন থেকে মুখ ফেরাতে বাধ্য। তাই দরিদ্র চাষীরা যাতে উৎপাদনে নিরুৎসাহী না হয় এবং ঋনের বোঝা ভারি না হয় এ জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দরকার। দরিদ্র ও প্রান্তিক চাষীরা তাদের নিজের পরিবারের সকল চাহিদা পূরনের লক্ষ্যে নানা জাতের কৃষিপন্য উৎপাদন করে লাভের পরিবর্তে লোকসান হওয়াতে তাদের মেরুদন্ড ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিগত বছরের দরিদ্র চাষীরা কফি ও টমেটোসহ অন্যান্য কিছু কৃষিপন্য পানির দামে বিক্রি করে ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অথচ এ সমস্ত খেটে খাওয়া ক্ষুদ্র পরিশরের দরিদ্র কৃষক উৎপাদিত পন্য কম দামে বাজারে বিক্রি করে দিন দিন ঋনগ্রস্ত ও অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। কারন তারা উৎপাদনের পন্যের উৎপাদনের খরচও উৎপাদিত পন্য বিক্রি করে হাতে পাচ্ছে না। সুষ্ঠ বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোসকতায় দরিদ্র চাষী ও প্রান্তিক চাষীদের রক্ষায় উৎপাদন জরুরী দরকার হয়ে পড়েছে বলে বিজ্ঞ মহল মনে করেন।











