,

শেরপুর জেলায় বন্যহাতির আক্রমনে মৃত্যু ১ আহত ২ - বন্যহাতির আক্রমনে এ যাবৎ প্রায় শতাধিক নিহত ও বহু আহত

মোঃ আব্বাস উদ্দিন শেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার ফুলহাড়ি গ্রামের আকবর আলীর ছেলে সোরহাব আলী (৫৫) নামের ব্যাক্তি বন্যহাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা যায় ও সঙ্গীয় দু’ব্যাক্তি আহত হয়।নিহত সোরহাব আলীর বাড়ি নলকূড়া ইউনিয়নের ফুলহাড়ি ও আহত ব্যাক্তিদের বাড়ি বাকাকূড়া গ্রামে। প্রকাশ থাকে যে, শেরপুর জেলার ভারত সীমান্ত ঘেঁষা ৩টি উপজেলায় বন্যহাতির আক্রমনে এ যাবৎ প্রায় শতাধিক নিহত ও বহু আহত। এবং কি ৩টি উপজেলার হাজার হাজার ঘরবাড়ি, গাছপালা এবং উৎপাদিত ফসল বন্যহাতির আক্রমনে বিনষ্ট হয়। অভিজ্ঞ মহলের ধারনা শেরপুর জেলার ভারত সীমান্ত ঘেঁষা ঝিনাইগাতী,শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ি গভীর জঙ্গলের গারো পাহাড় অরন্য শূণ্য হওয়াতে বন্যহাতির তান্ডবে মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে। শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ে কাঠ সংগ্রহে গেলে বন্যহাতির কবলে পরে কয়েকজন লোক। পরে বন্যহাতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার লক্ষ্যে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেও রেহাই পায়নি সোরহাব আলী (৫৫) নামে জৈনক ব্যাক্তি। উল্লেখ্য সোরহাব আলী বন্যহাতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ঝুপের আড়ালে পালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। আহত সোরহাব আলীকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়। ২দিন চিকিৎসার পর ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। সোরহাব আলীর ২সঙ্গী দৌড়ে প্রান বাঁচানোর চেষ্টাকালে তারাও গুরুত্বর আহত হয়। প্রকাশ থাকে যে, ভারত সীমান্ত ঘেঁসা ৩টি উপজেলার গারো পাহাড়ের এলাকায় ভারত থেকে নেমে আসে সমতল ভূমিতে খাদ্যের সন্ধানে বন্যহাতির দল। আর এই খাদ্য সন্ধানে অত্র ৩টি উপজেলার প্রায় ৩০কিঃমিঃ প্রসস্ত এলাকার ঘরবাড়ী ফসলসহ নানা ধরনের ক্ষতির মুখে পরে এই এলাকার বসবাসকারী লোকজন। এবং প্রাণ দিতে হয় এদের অনেকেরই। এযাবৎ প্রায় শতাধিক লোকের প্রাণহানী ও বহু লোক মারাতœক আহত হয়ে পঙ্গুত্ব জীবন-যাপন করছে। বন্যহাতির আক্রমনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার রক্ষায় সরকার স্থায়ী সমাধান কল্পে এখন পর্যন্ত কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। ফলে অত্র সীমান্ত ৩টি উপজেলা ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ি এলাকার ৩০কিঃমিঃ জায়গার দরিদ্র গ্রামবাসীর উৎপাদিত ফসল ঘর-বাড়ি ও জিবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে। প্রতি বছর ৩/৪  বার আক্রমনে অত্র এলাকার দরিদ্র পরিবারের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে আসছে ভারতের এই বন্যহাতির দল। প্রতিকার না থাকায় কেউ কেউ গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে এবং যারা বসবাস করছে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে থাকতে হচ্ছে। কোন উপায় না থাকায় বাধ্য হয়েই জীবন মরন স্বীকার করেই বসবাস করছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী পরিবারের লোকজন। উল্লেখ্য করা বিশেষ প্রয়োজন ইতিপূর্বে ঐতিহ্যবাহী এই গারো পাহাড় ছিল গভীর বন-জঙ্গলে পরিপূর্ন সবুজ শ্যামলে গভীর অরন্য। কিন্তু উক্ত গারো পাহাড়ের বৃক্ষ নিধনের ফলে আজ গারো পাহাড় প্রায় বিরান ভূমিতে পরিণত হতে চলছে। কতিপয় অসাধু বনকর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজশে কাঠচোর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই বিশাল অরন্য গারো পাহাড় আজ ধ্বংশের মুখে। উল্লেখ্য এই গারো পাহাড় থেকে কাঠচোর সিন্ডিকেটেরা বন বিভাগের মূল্যবান কাঠ রাতের অন্ধকারে কেটে পাচার করে গারো পাহাড়টি আজ বিরান ভূমিতে পরিণত করেছে।  আর উজার ভূমি চলে যাচ্ছে ভূমি দস্যুদের হাতে। এতে বনবিভাগের কোটি কোটি টাকার বনভূমি ব্যাহত হতে চলেছে। এই সমস্ত অনিয়ম আর দূর্নীতির কারনে বন্যহাতিরা পাহাড়ে খাদ্য না পেয়ে মানুষের উৎপাদিত ফসল, বাড়ি-ঘরের গাছপালাসহ জানমালের ক্ষয়-ক্ষতি সাধন করছে বলে বিজ্ঞ মহলের ধারনা। দীর্ঘ দিন থেকে এই সীমান্ত ঘেঁষা বারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা বন্যহাতির আক্রমনে সীমান্তের ৩০কিঃমিঃ ৩টি উপজেলার বহু লোকের প্রাণহানী ও জানমালের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে চলেছে। সীমান্তে বসবাসকারী  দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পরিবারের লোকজনের জানমাল রক্ষার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রহন করবেন এমন প্রত্যাশা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর দাবী।


(আপনার মোবাইল নম্বরটি অপ্রকাশিত থাকবে)


(আপনার ইমেইল এ্যাড্রেসটি গোপন রাখা হবে)


(বাংলায় মন্তব্য লিখতে ইউনিকোড বাংলা সফ্‌টওয়্যার ব্যবহার করুন)

পাতার শুরুতে