চিনি কলগুলোতে লোকসান হচ্ছে ২০০ কোটি টাকা,দেড় কোটি মানুষের রুটি রুজি হুমকির মুখে
আব্দুর রহমান মিন্টু, রংপুর প্রতিনিধি : দেশের১০টি চিনি কলে গত মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় এবং উৎপাদিত চিনির একটি বড় অংশ বিক্রি না হওয়ায় ক্রমাগত লোকসনের ফলে এ অঞ্চলের চিনিকলগুলোর সাথে জড়িত প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা কর্মকচারীদের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে।
সুগার মিল ও চিনি খাদ্য করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের চিনি কলগুলোতে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন চিনি অবিক্রিত রয়েছে। আখ চাষিদের পাওনাও রয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকার ওপর। ঠাকুরগাও চিনি কলে ২৬ কোটি ১২ লাখ টাকার ৪ হাজার৭৪৯ মেট্রিক টন চিনি, রংপুর চিনি কলে প্রায় ৯ কোটি টাকার ১ হাজার ৪৫৬ মেট্রিক টন, সেতাবগঞ্জ চিনি কলে সাড়ে ২০ কোটি টাকার ৩ হাজার ৭৩৮ মেট্রিক টন, শ্যামপুর চিনি কলে সাড়ে ১০ কোটি টাকার ১ হাজার ৯২৪ মেট্রিক টন, জয়পুরহাট চিনি কলে প্রায় ৩৩ কোটি টাকার ৫ হাজার ৯৫৯ মেট্রিক টন, পঞ্চগড় চিনি কলে সোয়া ২২ কোটি টাকার ৪ হাজার ৪৫ মেট্রিক টন চিনি অবিক্রিত রয়েছে। একই অবস্থা উত্তরের প্রতিটি চিানি কলের। প্রতিটি চিনি কলেই প্রচুর পরিমান চিনি অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেই সাথে আখ চাষিদের পাওনা রয়েছে কোটি কোটি টাকা। ফলে এবারো চিনিকলগুলোতে আরো ৩০০ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা বইতে হবে।জানা গেছে, গত মৌসুমে উত্তরের ১০ চিনি কলে ৮৯ হাজার ৪শ ৫১ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে পঞ্চগড় চিনিকলে সাড়ে ৭ হাজার টন,ঠাকুরগাও চিনিকলে ৯ হাজার ৬৩ টন, সেতাবগঞ্জ চিনি কলে ৫ হাজার ২৫০ টন, শ্যামপুর চিনিকলে ৩ হাজার
৯শ’ ৮৮ টন, রংপুর চিনিকলে ৪ হাজার ৯শ টন, জয়পুরহাট চিনি কলে ৮ হাজার ৬ শ’ ২৫ টন, রাজশাহী চিনি কলে ১০ হাজার ৮শ’ ৭৫ টন, নর্থ বেঙ্গল চিনিকলে ১৮ হাজার ৭শ’ ৫০ মেট্রিক টন, নাটোর চিনি কলে ১৫ হাজার টন, পাবনা চিনি কলে ৬ হাজার টন। এছাড়া দেশের ১৫ টি মিলে আখ মাড়াইয়ের লক্ষমাত্রা ১৭ লাখ ৯৫ হাজার টন। মৌসুমে দেশে লাখ ৬৯ হাজার একরে আখ আবাদ হয়েছে। এ জমি থেকে প্রায় ৪০ লাখ টন আখ উৎপাদন হয়েছে। এবার মিল গেটে প্রতি কুইন্টাল আখের দাম ধরা হয়েছে আড়াইশ টাকা। প্রতিমন ৯৩ টাকা ৩০ পয়সা। গতবারের চেয়ে দাম রাড়ানো হয়েছে ১০ টাকা ২০ পয়সা। তার পরেও চিনি কলের লোকসানের অব্যহত ধারা কমানো যায়নি।সূত্র আরও জানায়, এর আগের বছর দেশের ১৫ টি চিনিকলে ১৫ লাখ ৮১ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ১৮ হাজার ৯২৫ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নিধার্রন করা হয়। কোন মিলই চাহিদা মাফিক উৎপাদনে যেতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মিলগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যায়।চিনি করপোরেশন সূত্র জানায়, ১৯৯০ সালের পর থেকে দেশের প্রতিটি চিনিকল বছরে ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে। সেই হিসেবে শ্বেত হস্তি নামে খ্যাত এই চিনি কলগুলো গত ২১ বছরে লোকসান দিয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকার ওপরে। মিল কর্তৃপক্ষদের সাথে কথাবলে জানাগেছে, মিল জোনে আখের আবাদ কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আখে রসের পরিমাণ কমে যাওয়ায় চিনি উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। ফলে অধিকাংশ মিলের যন্ত্রাংশ বিকল হওয়ার পথে। দিন যতই যাচ্ছে মিলগুলোর যন্ত্রাংশ ততোই নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে।এভাবে চলতে
থাকলে এক সময় মিলগুলো বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য। এছাড়াও সুগার মিলের অদক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের খামখেয়ালী ও উদাসীনতার কারনেই অধিকাংশ মিলেই ব্রেক ডাউন হচ্ছে।
অভিজ্ঞমহলের অভিমত বিভিন্ন সেক্টরে সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতি অব্যবস্থাপনা ও চাহিদা মত আখ না পাওয়ার কারনে প্রতিবছরই মিলগুলো লোকসান গুনছে। নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, শ্যামপুর চিনি কলের জিএম ও মহিমাগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাংবাদিকদের জানান, লক্ষ্য মাত্রা পূরণ করতে পারলে প্রতিটি মিলে ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা লাভ হতো। তবে এক কেজি চিনি উৎপাদন করতে খরচ পড়ে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা।কিন্তু উক্ত চিনি বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রায় অর্ধেক দামে। তাও বিক্রি করা যাচ্ছেনা।তারাজানান, এখাতে সরকারি ভতুর্কি না বাড়ালে এক পযার্য়ে চিনি কলগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। সেই সাথে আখচাষের ওপর নির্ভরশীল প্রায় দেড়কোটি মানুষের রুটিরুজি হুমকির মুখে পড়বে।











