জীবননগরের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে
কামরুজ্জামান সেলিম,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : “হুশিয়ার সাবধান” ধ্বনিতে গ্রাম বাংলার মানুষের নিরাপত্তায় রাতের পর রাত যে মানুষগুলো অবিচল তারাই ‘গ্রাম পুলিশ’। ১৭০৬ সালে শের শাহ্’র আমলে বিচারকার্য পরিচালনায় সহযোগিতার জন্য মহলাদার ও তরফদার পদবিধারীদের নিয়ে এ বাহিনীর সূচনা ঘটে। এক সময়ের তরফদার ও মহলাদাররা পরে চৌকিদার ও দফাদার বলে পরিচিত হন। এখন তাদেরকেই গ্রাম পুলিশ বলে অভিহিত করা হয়।বর্তমানে ইউপি চেয়ারম্যানকে বিভিন্ন কাজে সহায়তা করা ছাড়াও গ্রাম পুলিশের মতা ও কাজের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন অপরাধের তদন্ত, অপরাধ সম্পর্কে তথ্য আদান-প্রদান, ইউনিয়ন পরিষদ পাহারা, অপরাধ নিরোধ ও উদঘাটন, অপরাধী গ্রেফতারে পুলিশকে সহযোগিতা, দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশংকার খবর সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করা, জন্ম-মৃত্যু রেজিস্ট্রেশন, রাজস্ব আদায় ও সমন জারি ইত্যাদি।গ্রাম পুলিশের বেশ কয়েকবার পদবি পরিবর্তন হলেও তাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় নি। তাদের কাজের পরিধি বাড়লেও বাড়েনি বেতন ভাতা, সুযোগ-সুবিধা ও জীবন-যাপনের মান। তাই তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।গ্রাম পুলিশ সদস্যরা জানান, তাদের চাকরি বর্তমানে দু’ভাগে বিভক্ত। বেতনের অর্ধেক অংশ পায় সরকার থেকে বাকী অর্ধেক পায় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে। এর মধ্যে সরকারি অংশ মোটামুটি নিয়মিত পেলেও ইউনিয়ন পরিষদের অংশ বছরের পর বছর বকেয়া পড়ে থাকে।
১৯৬৮ সালে তাদের মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হয় চৌকিদার ৭০ টাকা ও দফাদার ৮০ টাকা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বেতন যথাক্রমে ২০০ টাকা এবং ২২০ টাকা ধার্য করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে বেতন বাড়িয়ে নির্ধারণ করা যথাক্রমে ৭শ’ ও ১ হাজার টাকা এবং সর্বশেষ তিন বছর আগে চৌকিদারদের ২ হাজার টাকা ও দফাদারদের ২ হাজার ২শ’ টাকা। প্রথমবারের মত ওই বছর দুই ঈদে এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ বোনাস চালু করা হয়। জীবননগর উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নে প্রতিটিতে ১০ জন করে গ্রাম পুলিশ সদস্য রয়েছে। সামান্য এ বেতনে তাদের সংসার চলছে না। অনেকেই টাকার অভাবে মেয়ের বিয়ে পর্যন্ত দিতে পারছেন না।











