,

পুলিশের হাত কড়া পরানোর কয়েক ঘন্টা পর গাজীপুরে ব্যবসায়ির লাশ উদ্ধার !

আবুল হোসেন,গাজীপুর প্রতিনিধি : খুনের হুমকির প্রেক্ষিতে থানায় সাধারণ ডাইরী (জিডি) করেও শেষ রক্ষা পেলেন না গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বড়গাঁও গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে মো. মামুন (৩২)। মামুন বড়গাঁও এলাকার মুদি ব্যবসায়ি ছিলেন। মঙ্গলবার দিবাগত গভীররাতে পুলিশ কালীগঞ্জের মোক্তারপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের একটি সড়কের পাশ থেকে ধারালো অস্ত্রে খুন হওয়া মামুনের লাশ উদ্ধার করেছে। নিহত মামুনের সুমন্দি (স্ত্রীর বড় ভাই) মোশারফ হোসেন জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মামুনকে কালীগঞ্জের বড়গাঁও বাজার থেকে কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নৃপেন চন্দ্র দে হাত কড়া পরিয়ে ধরে নিতে দেখেছে এলাকাবাসি। আর রাতেই রামচন্দ্রপুর গ্রামে মামুনের লাশ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়। এনিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে এসআই নৃপেন চন্দ্র দে জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি মামুনকে বড়গাও বাজারে ধরতে গেলেও তিনি তাকে (মামুনকে) ধরতে পারেন নাই।
মামুনের বড় ভাই নাজমুল হোসেন ভুইয়া জানান, ৬-৭মাস আগে একটি মোবাইল ফোন থেকে মামুনকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। এ প্রেক্ষিতে কালীগঞ্জ থানায় তখন একাধিক জিডি রয়েছে। জিডিতে মুক্তারপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শরীফুল ইসলাম তোরণের কর্মীর নামও রয়েছে। পুলিশের সাথে প্রতিপক্ষরা যোগসাজশ করে ওই খুনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
মামুনের ভাতিজা সাইদুল ইসলাম জানান, বিগত ইউপি নির্বাচনে মামুন, তোরণের প্রতিপক্ষের হয়ে কাজ করায় তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এর জেরেই প্রায় একমাস আগে প্রতিপক্ষের লোকজনের হাতে তোরনের সহকর্মী সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হেকিম লাঞ্চিত হন। এর পেছনে মামুনের হাত ছিল বলে প্রতিপক্ষের ধারণা করছিল। এ দ্বন্দ্ব থেকেও ওই খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তার  ধারণা।
নাম প্রকাশে এক সাংবাধিক জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে একটি অজ্ঞাত ফোন থেকে গাজীপুরের ওই সাংবাদিকে জানানো হয়, রামচন্দ্রপুর গ্রামে এক ডাকাতের লাশ পড়ে আছে। এ খবর প্রচার করলে তাকে বকশিস দেয়া হবে জানায় মোবাইল ফোনে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন, মামুনের খুন হওয়া ও লাশ উদ্ধারের খবর  স্বীকার করেছেন। লাশের দেহের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বড়গাঁও বাজার এলাকায় পুলিশ আসামি ধরতে গেছে এমন খবর শুনেছি, কিন্তু  মামুন আটক হওয়ার খবর তার জানা নেই। এসময় তিনি জেলা শহরে একটি মামলার কাজে ব্যস্ত ছিলেন।


(আপনার মোবাইল নম্বরটি অপ্রকাশিত থাকবে)


(আপনার ইমেইল এ্যাড্রেসটি গোপন রাখা হবে)


(বাংলায় মন্তব্য লিখতে ইউনিকোড বাংলা সফ্‌টওয়্যার ব্যবহার করুন)

পাতার শুরুতে