আলীকদম আশ্রায়ণ প্রকল্পে আশ্রিতদের দুর্দিন
মমতাজ উদ্দিন আহমদ, আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি : বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলার আশ্রায়ণ প্রকল্পে আশ্রিতদের দুর্দিন চলছে। খাদ্য সহায়তা ও সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ইতোমধ্যে ৭০টি পরিবার থেকে ৩০টি পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। সেখানে বসবাসরত ৪০টি পরিবার বর্তমানে দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত হয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। আশ্রিতরা শিক্ষা, চিকিৎসা ও আত্মসামাজিক উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অভাব-অনটনের কথা জানিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট একাধিক আবেদন করলেও কর্তৃপক্ষ নির্বিকার।তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত ৯৯ সালে সরকার দু:স্থ জনগণের আবাসন সমস্যার নিরসন ও জীবনমান উন্নয়ন কল্পে দেশব্যাপী আশ্রায়ণ প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়। এ প্রকল্পের আওতায় আলীকদম উপজেলা সদরের সাড়ে তিন কিলোমিটার দুরে আমতলী গ্রামে আশ্রায়ণের জায়গা নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর ৪৪ ইবিআর এর তত্ত্বাবধানে ২৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৭০ পরিবারের বসবাস উপযোগী ব্যারাক তৈরী করে উপজেলা প্রশাসনকে হস্তান্তর করেন। প্রশাসন এলাকার ৭০টি হতদরিদ্র পরিবারকে এ প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভূক্ত করে। এরমধ্যে ৩০টি উপজাতী পরিবার ও ৪০টি বাঙ্গালী পরিবার ছিলো।সরেজমিন দেখা যায়, আশ্রিত পরিবারগুলোর চোখে মুখে ফুটে উঠা এক নির্মম দারিদ্রের চিহ্ন। উক্ত প্রকল্পে বসবাসকারীরা জানান, ২০০০ সালের প্রথম দিকে তাদেরকে আশ্রায়ণ প্রকল্পে পুনর্বাসন করার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ৬ মাস পর্যন্ত খোঁজখবর নেয়। এরপর থেকে কোন কর্তৃপক্ষই তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন না। আশ্রিতরা চাঁদার টাকায় আবেদন লিখে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের ফরিয়াদ জানানো সত্বেও কোন সাড়া পাননি। আশ্রায়ণ প্রকল্পে নির্মিত ৩টি রিংওয়েল অকেজো। ফলে পানীয় জলের সংকটসহ নানাবিধ রোগব্যাধির শিকার আশ্রিতরা। রিংওয়েলগুলি মেরামতের ব্যাপারে স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের শরাণাপন্ন হয়েও কোন ফল পায়নি। প্রকল্প এলাকায় আশ্রিতদের মাঝে খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা ও শিক্ষা উপকরণ না দেয়ায় ওই এলাকাটি বর্তমানে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এরফলে ৩০টি পরিবার ইতোমধ্যে অন্যত্র চলে গেছে। ইঁদুর কপালে বাকী পরিবারগুলো দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হয়েও মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে আশ্রায়ণ প্রকল্পে রয়েছেন। সেখানে বসবাসরত প্রায় দেড় শতাধিক বাসিন্দা জনবল রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এসব পরিবারের জন্য দুর্গম ওই এলাকায় কোন কর্মসংস্থানও নেই। অচিরেই এ পরিবারগুলোর আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির করা না হলে এরাও চলে যাবে বলে আশংকা হচ্ছে।আশ্রায়ণ প্রকল্পটি স্থানীয় উপজেলা সদর থেকে মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার দুরে অবস্থিত হলেও ‘প্রদীপের নীচে অন্ধকার’ অবস্থা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, ব্যক্তি মালিকাধীন জায়গায় প্রকল্পের স্থান নির্ধারণ করায় মালিকপক্ষ হাইকোর্টে প্রকল্প কার্যক্রম স্থগিতের রীট আবেদন করেন। কোর্ট তাদের আবেদনটি আমলে এনে প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। এদিকে, তৎকালীন সময়ে কর্তৃপক্ষ এ আদেশ লঙ্ঘন করে প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করেছেন বলে জায়গার মালিকপক্ষ অভিযোগ করেন। ফলে সরকারীভাবে আশ্রিতরা আইনের গ্যাড়াকলে পড়ে তাদের মৌলিক সুযোগ সুবিধা থেকে অদাবধি বঞ্চিত রয়েছেন। সমাজের চিহ্নমুল মানুষের আশ্রয়ের জন্য সরকারের একটি মহৎ উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে অদুরদর্শীতার কারণে।











