মংলায় বিএনপির গাড়ি বহরে যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলা : মাইক্রোসহ ৪০টি মটরসাইকেল ভাংচুর, আহত-৩৫
বাগেরহাট প্রতিনিধি : মংলায় বিএনপির প্রয়াত নেতা করিম ফকিরের মুত্যু বার্ষিকীতে যোগ দিতে যাওয়া দলীয় নেতাকর্মীদের গাড়ি বহরে শাসকদলের ক্যাডাররা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। শনিবার দুপুরে শহরের বিভিন্ন স্পটে তিন দফায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তিনটি মাইক্রোসহ ৪০টি মটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়েছে। শাসক দলীয় ক্যাডারদের সশস্ত্র এ হামলায় বিএনপি-যুবদল ও ছাত্রদলের অন্তত ৩৫ নেতা কর্মী গুরুত্বর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় শহর জুড়ে চরম উত্তেজন ও আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনলেও স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী শহরের বিভিন্নস্থানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। ফলে দলের বিভাগীয় ও জেলা এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রায়ত ওই নেতার মৃত্যু বার্ষিকীর মিলাদ মাহফিলে যোগ দিতে পারেনি ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, মংলার উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি প্রয়াত নেতা করিম ফকিরের চিলার গ্রামের বাড়িতে শনিবার দুপুরে পারিবারিক ভাবে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে খুলনা নগর বিএনপির সভাপতি ও সাংসদ নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, সাধারন সম্পাদক আলী রেজা বাবু ও দলের জেলা পর্যায়ের সিনিয়র নেতাসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা শনিবার দুপুরে মংলা পৌর শহরের একত্রিতভাবে যোগদেয়ার জন্য জড়ো হতে থাকে। জেলা পর্যায়ের নেতারা পৌছানোর আগ মুহুর্তে বিএনপির নেতাকর্মীদের বহনের জন্য অপেক্ষায় থাকা গাড়ি বহরে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা অতর্কীত হামলা চালায়। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালামের মালিকানাধিন তিনটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত মাইক্রো ও নেতাকর্মীদের বহনকারী মটরসাইকেল বহরের অন্তত ৪০টি গাড়ি ভাংচুর করা হয়।এছাড়া লাঠি-সোটা সহকারে এলাপাথাড়ি এ হামলায় বিএনপির কমবেশি ৩৫ নেতাকর্মী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। এ সময় বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা মারপিটের শিকার হয়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেয়। দুপুর একটার দিকে প্রথম দফায় শহরের চৌধুরী মোড়ে, দ্বিতীয় দফায় সিঙ্গাপুর হোটেলের মোড় ও টিএন্ডটি মোড় রাস্তায় তিন দফায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। অনেকটাই আকস্মিকভাবে শাসকদলের এ হামলার ঘটনায় শহরে জুড়ে চরম আতংক ছড়িয়ে পড়ে এবং পথচারীরাও দিগ্বিদিক ছোটা-ছুটি শুরু করে। পরে পুলিশ পরিসি’তি নিয়ন্ত্রনে আনে। অহতদের মধ্যে মাইক্রো ড্রইভার আফসার(৩৮), রহিম(৩৭), মারুফ (২৮),রুবেল (২৬), নজরুল ইসলাম(৩২), নজরুল মল্লিক (৩৫), আরেফিন (৩০), বেল্লাল(২৫), কাইয়ুম(৪০), রিপন বৈরাগী (২৪), ফিরোজ সরদার(৬৫), আঃ আজিজ মেম্বর(৫০), রহিম মোল্লা(৩৫), হিরন মোল্লা(২৬), মহিবুল্লাহ(৩৭) গুরুত্বর আহত হয়। তবে আহতদের এ সংখ্যা ৩৫ জন বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতা মৃধা নজরুল ইসলাম। এদিকে ওই ঘটনার পর প্রয়াত বিএনপির নেতার মুত্যু বার্ষির্কীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেনি জেলা ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তবে এ হামলা ঠিক আগ মুহুর্তে জেলা জামায়াতের নেতা মাওঃ আব্দুল ওয়াদুদের নেতৃত্বে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা মটরসাইকেল বহর নিয়ে কোন বাঁধা বিঘ্ন ছাড়াই ওই মুত্যু বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। মংলা পৌর শহরে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কীত হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম জানান, আ’লীগের অঙ্গ সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ক্যডারদের হামলার মুখে বিএনপির নেতাকর্মীরা দলের প্রায়ত নেতা করিম ফকিরের দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে যোগদিতে পারেননি। এমনকি ওই হামলার খবর পেয়ে সে নিজেও মংলায় আসতে পারেননি। মংলা পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও পৌর সভার মেয়র জুলফিকার আলী জানান, দলের আহত নেতাকর্মীদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ এ হামলার ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে । এ দিকে ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে অবরুদ্ধ রয়েছেন বলে দাবি করেছেন মংলা উপজেলা যুবদলের সভাপতি বাবুল হোসেন রনি। অপরদিকে শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন স্থানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ফের হামলার আশংকা করছেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তবে ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের নেতারা এ ঘটনাকে বিএনপির আভ্যন্তরীন কোন্দলের জের বলে দাবী করেছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে দাবি করে মংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মুনির-উল-গিয়াস জানান, বিএনপির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।











