সরকারি পিকেটিং, বাজী ও বিপ্লবের গল্প
ড. ফজলুল হক সৈকত : সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য পথে পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বিরোধী দল- এ দৃশ্য আমাদের কাছে পরিচিত। কিন্তু কর্মসূচি বিরোধী দলের আর বাস-ট্রেন-লঞ্চ বন্ধ করে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে সরকার- এমন ঘটনা একেবারে নতুন। যেন সরকার ‘পিকেটিং’ করছে বিরোধী দলের আন্দোলনকে সফল করার জন্য। ১২ মার্চ বিরোধী দলের মহাসমাবেশকে ঘিরে সারাদেশে সরকারের সতর্কতাকে ঠিক ‘পিকিটিং’ বলা যায় কি-না ভাবতে গিয়ে এই ইংরেজি শব্দটির আভিধানিক অর্থ-উদ্ধারের প্রয়োজন পড়লো। তো রাজনীতিবিজ্ঞানের পরিভাষা এই Picket’(পিকেট)-এর অনুসন্ধান করে দেখা গেল শব্দটির দু’ধরনের এন্ট্রি রয়েছে। প্রথমত, ‘পিকিট’ মানে মাটিতে পোঁতা সূচাগ্র খুঁটা বা গোঁজ; পুলিশ বা ব্যক্তির ছোট দল যারা কারও সন্ধানে বিশেষ কর্তব্যে নিয়োজিত; শ্রমিক বা অন্যান্য ব্যক্তির দল যারা হরতাল বা ধর্মঘটের সময়ে রাস্তায় যানবাহন চলাচলে বাধা দেয় বা কারখানার গেটে অন্যদের প্রবেশ ব্যাহত করে। দ্বিতীয়ত, ‘পিকেটিং’-এর অর্থ দাঁড়ায় ঘোড়াকে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা; কোনো স্টেশনে বা কোনো স্থানে দলবদ্ধ হয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত করে দাবি জানানো; কোনো কারখানায় অনুরূপ কারণে সমবেত হওয়া এবং এ ধরনের সমাবেশে অংশগ্রহণ করা। তাহলে দেখা যাচ্ছে বিরোধী দলের মহাসমাবেশকে প্রতিহত করতে পুলিশের সরকারি নির্দেশনা পালন এবং তাদের ব্যারিকেড অতিক্রম করে বা কৌশলে তা এড়িয়ে সমাবেশস্থলে রাজনৈতিক কর্মী ও সমর্থকদের প্রবেশ ও অবস্থানগ্রহণ- দুটোই পিকেটিং-এর পর্যায়ে পড়ে। কিন্তু কথা থেকে যায় ‘মাটিতে পোঁতা সূচাগ্র খুঁটা বা গোঁজ’ আর ‘ঘোড়াকে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা’র ব্যাপারাদি নিয়ে।
এবারও নিরুপায় হয়ে অভিধানে আর শব্দের তাৎপর্যের দিকে সতর্ক নজর রাখতে হলো। দেখা গেল ঘোড়ার একটি সমার্থক শব্দ ‘বাজী’। আর বাজী (কিংবা বাজি) বলতে বুঝায় ইন্দ্রজাল, ভেলকি বা ম্যাজিক অথবা খেলার কোনো দফা। এখন অনুমান করা যায় সরকারের পিকেটিং, বিরোধী দলের সভা বাস্তবায়নে ঘোষিত বাজি, ঘোড়ার ছুটেচলার মতো ঢাকামুখি বিপ্লবী মানুষের স্রোত, সরকারি দল বা জোটের নড়বড়ে খুঁটি আর শেষত সমমনা ১৬ দলের সরকার পতনের এক দফা বর্তমান বাস্তবতাকে কীভাবে এক ফিতার ভেতরে দাঁড় করিয়েছে। সারাদেশে প্রায় তিনদিন ধরে তল্লাশি-অভিযান চালিয়ে, নির্বিচারে গ্রেফতার করে, সকল ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে, রাজধানীর হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিয়ে, হয়রানির নামে আতঙ্ক ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করেও শেষ অবধি সরকার বা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সমাবেশকে বানচাল করতে পারেনি। মানববন্ধনের নামে কিংবা প্রতিবাদ সমাবেশে-মিছিলের আড়ালে প্রতিরোধের দুর্গ গড়ে তুলেও মহাজোট বা ১৪ দল ১২ মার্চের কর্মসূচিকে ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং সরকার ও সরকারে থাকা রাজনৈতিক জোট দেশে-বিদেশে নেতিবাচক সমালোচনার মুখে পড়েছে। সকলেরই এক কথা- কেন সরকার বা আওয়ামী লীগ এই ধরনের প্রতিবকন্ধতা তৈরি করল? কেউ কেউ বলেছেন- এটা সরকারি হরতাল। অনেকে ধারণা করেছেন প্রধানমন্ত্রীসহ তার সহযোগীরা পতনের আতঙ্ক থেকে এমন অদৃশ্যপূর্ব কাজটি করে থাকতে পারেন। এসব দেশে ও শুনে মনে প্রশ্ন জাগে- তাহলে কী আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগীদের সময় ফুরিয়ে আসছে?বিএনপির মহাসমাবেশ থেকে দেশকে বিপন্ন অর্থনীতি থেকে উত্তরণ, মাল-জানের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা এবং নাগরিকের ভোটাধিকার প্রয়োগের নির্ভরযোগ্য ও নিরপেক্ষ প্লাটফর্ম স্থাপনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। এবং সবকিছুকে এককাতারে দাঁড় করিয়ে বিরোধী দল নির্দলীয়-তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে এক দফা আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। বারবার মহাসমাবেশ কিংবা গণজমায়েতের ইঙ্গিতও মিলেছে বিরোধী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা করতে না পারলে সরকারকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। বিএনপির সব শরিক দলও এই এক দফা দাবির সাথে তাদের অভিন্ন মত প্রকাশ করেছে। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য বিরোধী পক্ষ সরকারকে যে অনুরোধ জানিয়েছে, তাতে মানবাধিকার এবং নাগরিকের ভোটাধিকারের প্রসঙ্গ জড়িত থাকায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের প্রতি সমর্থনও বাড়ছে। মহাসমাবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার প্রতিবাদে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে; তারা আন্তর্জাতিক মহলে এ ব্যাপারে জনমত সৃষ্টির বিষয়েও সতর্ক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। সারাদেশে চলাচলে বাধা দিয়ে সরকার সাধারণের অধিকারকে বিঘ্নিত করেছে- এই বিষয়টি ক্রমে জনবিক্ষোভের দিকে ধাবিত হতে পারে বলেও অনেকে মনে করছেন। ফলে অদূর ভবিষ্যতে দেশের নিরাপত্তাও সার্বিকভাবে হুমকির মধ্যে পড়ে যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের স্বৈরাচার বিরোধী গণবিপ্লব এবং সমপ্রতি ভারতের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের ভরাডুবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের রাজনীতির পরিবেশও ভারী ও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণ এবং বাজার (শেয়ারমার্কেট কেলেংকারি) ও মানুষের পকেট থেকে টাকা-পয়সা লুটপাটের (দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও চাকরিহীনতা) কারণে অধিকাংশ সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা। উপরন্থ ঢাকাকে অবরুদ্ধ করে পক্ষান্তরে সরকার দেশব্যাপি জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এই সরকারি হরতালে দেশের অর্থনীতি ভয়াবহ ও অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
আবার স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর কিছু বক্তব্য এবং তার সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কথাবার্তা থেকে অনুমান করা যায় যে, সরকারও কোনো দিক-নিশানা খুঁজে পাচ্ছে না। শেখ হাসিনা বলেছেন- “আইএসআই, ‘র’ ও আমেরিকা এক হয়েছিল বলে ২০০১-এ ক্ষমতায় আসতে পারিনি।” তার মানে কী দাঁড়ায়? তাহলে কি ২০০৮-এর নির্বাচনে তিনি ক্ষমতায় প্রবেশ করেছেন কারো হাত ধরে বা সহায়তা নিয়ে? এ ধরনের মন্তব্য একটি গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম দেশের জন্য কোনোভাবেই সম্মানজনক নয়। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জনগণের ভোটে রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বে আসে রাজনৈতিক দল বা জোট। প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য শুনে মনে হয় তিনি গণতন্ত্রকে মানেন না; ক্ষমতায় আসার জন্য ভিনদেশি শক্তির সহায়তা খুঁজে বেড়ান। আবার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের রাজনৈতিক অবস্থন কিংবা মন্ত্রীদের কার্যকলাপ নিয়েও খোদ সরকারের ভেতরেই বিরাজ করছে ক্ষোভ ও জিজ্ঞাসা। এই বিষয়গুলোও জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমসহ বিদ্বৎসমাজ এবং সচেতন মহল চেয়েছিল বিরোধী দলের মহাসমাবেশ নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ হোক। আয়োজকদের পক্ষ থেকেও শানি-পূর্ণ সমাবেশের কথাই বলা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত তা হয়েছেও। কিন্তু সরকার তথা আওয়ামী লীগ ও তার সাথীরা ভেবেছিল সমাবেশকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংঘাত কিংবা বিপ্লব তৈরি হতে পারে। সে কারণেই নজির বিহীন এই প্রতিবনন্ধকতা। এই সরকারি পিকেটিং-এ একদিকে যেমন জনজীবন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি অভাবিত পুলকেরও জন্ম দিয়েছে। আওয়ামী লীগ যে প্রশাসক হিশেবে উপযুক্ত নয়, তা এই সরকারি পিকেটিং-এর মধ্য দিয়ে আরেকবার প্রমাণিত হলো। ক্ষমতায় আসার পরপরই বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শেয়ার বাজারের ব্যাপক ধ্বস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অরাজকতা, বেকারত্বের বিরাট-ব্যাপক চাপ, যোগাযোগ ব্যবস্থা তত্ত্বাবধানে ব্যর্থতা, নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা দিতে না-পারা, সীমান্ত সমস্যা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নির্মাণে অপরিপক্বতা থেকে বারবার আওয়ামী সরকারের অক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছে। অপরাধকে লালন ও রাষ্ট্রকে অস্তিত্ব-সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়ে বর্তমান সরকার কেবল নিজেদের ক্ষমতার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার পাঁয়তারায় ব্যস্ত আছে। স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে যে দেশের নাগরিক, সেই বাংলাদেশের মানুষকে অগণতান্ত্রিকভাবে অত্যাচার করে, তাদের প্রতিদিনের চাহিদাকে পাত্তা না দিয়ে, জাতির অধিকারের খাতা শূন্য রেখে গলায় অবহেলার মালা গেঁথে দিয়ে কীভাবে একটি জালিম সরকার রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বে টিকে থাকতে পারে, তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। রাজনীতিতে সহিংসতার পথ পরিহার করে, নিজেদের ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার ষড়যন্ত্রকে পরিত্যাগ করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার দিকে ধাবিত না হলে, তা হবে সকলের জন্য ক্ষতিকর। বাজি রেখে কিংবা অন্যকে পালিত কিংবা আশ্রিত ঘোড়ার মতো শক্ত খুঁটিতে বেধে রেখে লাভের বা অর্জনের পথ পরিষ্কার করা যায় না। পিকেটিং করেও হয়তো সাময়িকভাবে জনতাকে সামান্য বিব্রত করা চলে। কিন’ সত্য দাবির জয় যুগে যুগে পৃথিবীতে হয়েছে। হবেও। তাকে ঠেকানো যাবে না কিছুতেই। আর মিডিয়ার গলা টিপে ধরলে তার ফলও ভালো হয় না। এক সময় না এক সময় বিস্ফোরন ঘটেই। তখন আর পালাবার পথ পাওয়া যায় না। রাজনীতিতে ধৈর্য আর সংযমের লম্বা পথ পাড়ি দিতে হয়। জাতির জন্য ভালো কিছু করতে চাইলে অপেক্ষা আর নিরন্তর প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। তবে এবার বাজি ধরেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। ৯০ দিনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে না নিলে ১১ জুন ঢাকায় সমাবেশের মধ্য দিয়ে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে নামবে তারা। মাল-জানের নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়লে বিপ্লবের সূচনা হতে পারে। মনে রাখতে হবে, জীবন বাজি রেখে এ দেশের লোক স্বাধীনতা অর্জন করেছে। বর্তমানে দেশের প্রশাসন, বিচার বিভাগ, জাতীয় সংসদ ও গণমাধ্যমকে বিপর্যস্ত করে সরকার জাতিকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিপ্লবের মাধ্যমে অধিকার আদায় ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কোনো পথ খোলা নেই। নিপীড়নের বিরুদ্ধে কেবল গণ-অভ্যুত্থানই জনগণের জন্য কল্যাণ ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারে। সারা পৃথিবীতে এর নজিরও কম নেই। জনবিচ্ছিন্নতা, বহির্দেশে গ্রহণযোগ্যতার অভাব, বিদেশি বিনিয়োগের হ্রাসকরণ প্রভৃতি বিষয় সরকারের পতনকেই কেবল তরান্বিত করবে।
বিরোধী দলের সমাবেশকে ঘিরে সরকারের এই বাড়াবাড়ি কেন? কী কারণে রাজধানী ঢাকাকে প্রায় দুইদিন সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হলো? তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে আওয়ামী লীগের এতো একগুঁয়েমি কেন? তাদের খুঁটির জোরই বা কোথায়? সরকার কি নিজেকে ‘মাটিতে পোঁতা সূচাগ্র খুঁটা বা গোঁজ’ দিয়ে নিরাপদ আর ‘ঘোড়াকে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা’র চিন্তা দিয়ে বিরোধী দলকে প্রতিহত করতে চায়? ঢাকায় মানুষকে ঢুকতে বাধা প্রদান করে কিংবা সমাবেশের সরাসরি টেলিভিশন সমপ্রচার বন্ধ করে দিয়ে সরকার কী প্রতিষ্ঠা করতে চায়? পৃথিবী অনেক এগিয়েছে। সভ্যতাও। প্রযুক্তির সুবিধায় সোস্যাল নেটওয়ার্কিং-এর মাধ্যমে এখন মানুষ অনুভূতি ও অভিমত ভাগাভাগি করতে পারে। জানাতে পারে প্রতিক্রিয়া ও সমবেত ক্ষোভ। তৈরি করতে পারে বিপুল জনমত। কাজেই সড়ক-রেল-নৌ পথ বন্ধ করে মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চিন্তা বোকামি মাত্র। প্রকৃত যোগাযেগ রাস্তা দিয়ে কিংবা নদী দিয়ে ঘটে না; চিন্তা আর কাজের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় যোগাযোগের ভাষা ও শক্তি। কাজেই, সরকারের কাজ হবে অন্যায়-অবৈধ প্রতিরোধ গড়ে না তুলে সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া এবং জনতার যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া। আর তা না হলে অচিরেই বাজতে পারে বিদায় ঘন্টা।
ড. ফজলুল হক সৈকত
সমাজচিন্তক, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ
সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি
গাজীপুর, বাংলাদেশ ।











