সরকারি জমি বিক্রির অভিযোগ বাগেরহাটে সাব-রেজিষ্ট্রার-সহকারীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
রোমান শেখ, বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটের চিতলমারীতে সরকারি জমি বিক্রির অভিযোগে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বাদী হয়ে উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার ও অফিস সহকারিসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। আর ঘটনাটি ফাঁসের পর প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে তোলপাড় শুরু হলেও প্রকৃত জাল-জালিয়াতির চক্রটি রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি), সাবরেজিষ্ট্রী অফিস এবং স্থানীয় ভূমি অফিসের পরসপরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, উপজেলার ৪নং শ্রীরামপুর মৌজার এসএ ২ নং খতিয়ানের সাবেক জমিদারী খতিয়ানভূক্ত ২শ’৩২ দশমিক ৩৭ একর জমি যা রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর ৯২ ধারা অনুযায়ী সরকারের খাস সমপত্তিতে পরিণত হয়ে সরকারের খাস খতিয়ানভূক্ত হয়। উক্ত খাস খতিয়ানভূক্ত জমি থেকে ৪২২৮, ৪২৪৮, ৪২৫০, ৪২৫৪, ৫৯২০/৫৯৮৯, ৫৯৮৩/৫৯৮৯, ৪২৩০, ৬১৩৩, ৪০০৯, ৪০৫২, ৫৯২১, ৫৯২৯, ৫৯০৫, ৫৯৫৬, ৩৫০২, ৩৫০৪ দাগের ২১ দশমিক ৯৬ একর জমি জনৈক খলিলুর রহমান গং মিসকেস নং ৮১/৮৭-৮৮ এর মাধ্যমে অবৈধভাবে রেকর্ড সংশোধন করে নিলে সরকার পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মহোদয়ের আদালতে একটি রিভিশন ১৮/২০০৬ নং মামলা দায়ের করেন। উক্ত রিভিশন মামলায় আদালতের ২০০৮ সালের ১৯ আগষ্ট আদেশে ৮১/৮৭-৮৮ নং মিস কেস বাতিল করে সরকারের নামে ২১ দশমিক ৯৬ এর জমির রেকর্ড পুনর্বহাল করা হয়। উক্ত জমি সরকারের দখল ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে আছে। এ জমি বর্তমান আরএস জরিপে যথারীতি সরকারের নামে ১ নং খতিয়ানে রেকর্ড হয়েছে। কিন’ মামলার ১ নং আসামী আঃ জলিল শেখ (বিক্রেতা) ও ২ নং আসামী মহিউদ্দিন শেখ (ক্রেতা) অন্যান্য সকল আসামীদের সাথে প্রত্যক্ষ যোগসাজসে বাদী চিতলমারী সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নেয়ামত আলী শেখের স্বাক্ষরে চলতি বছরের জানুয়ারির ১২ তারিখে ৭ নং আসামী মহিউদ্দিন (দলিলের স্বাক্ষী) এর অনুকুলে প্রকৃত ইস্যুকৃত ৮৫৪৬১৭ নং দাখিলা জেলা রেকর্ড রুম খুলনা কার্যালয়, চিতলমারী, বাগেরহাট হতে সরবরাহকৃত ভিন্ন নাম ও খতিয়ানের জমির তফশীল পরিবর্তন করে সরকারের খাস জমি অন-র্ভূক্ত করে দলিল প্রস’তের পর ৩ নং আসামী মোঃ উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার মোঃ ফিরোজ মিয়া ও অফিস সহকারী দুলাল কৃষ্ণ বসুর দপ্তরে তা দাখিল করে। উক্ত কর্মকর্তার দপ্তরে চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারীতে ৩৮৮/২০১২ নং দলিলের মাধ্যমে উক্ত ২০ লাখ টাকা মূল্যের জমি রেজিষ্ট্রি করা হয়। উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার ও অফিস সহকারীর তঞ্চকতা ও জালিয়াতীর মাধ্যমে সরকারী সমপত্তি নিয়ে প্রস’তকৃত ভূয়া দাখিলা এসএ ও আরএস পর্চার বিষয়ে সম্মক জ্ঞাত থাকা সত্বেও অন্যায়ভাবে নিজেরা লাভবান হয়ে ১ নং ও ২ নং আসামীকে সরকারী খাস জমি ক্রয়-বিক্রয়ে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছেন। সেই সাথে সরকারের ২০ লাখ টাকা মূল্যের সরকারি সমপত্তি বেহাত করতে উৎসাহ যুগিয়েছেন। ইতিপূর্বে সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী দুলাল কৃষ্ণ বসু এসিল্যান্ড অফিসের নিজস্ব ভূমি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্ঠ কাগজ পত্রের ভিত্তিতে ক্রয় বিক্রয় করতে স্থানীয় একটি জালিয়াতী চক্রকে সহযোগিতা করেছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভূমি মুহাম্মদ সোহেল হাসান জানান, একটি দলিল রেজিষ্ট্রি সমপাদন করতে গেলে জমির মিউটেশন, হাল দাখিলা, এসএ পর্চা, সিএস পর্চা প্রয়োজন। এ জন্য আইন ও ভূমি মন্ত্রাণালয় একাধিক পরিপত্র জারি করেছেন। কিন্তুউক্ত জমি কিভাবে সাবরেজিষ্ট্রার মোঃ ফিরোজ মিয়া মিউটেশন ছাড়া সরকারি জমি দলিল রেজিষ্ট্রি করে দিলেন তা বোধগম্য নয়। এ ব্যাপারে সাব- রেজিষ্ট্রার মো. ফিরোজ মিয়া জানান, দলিলটা জাল বলা যাবেনা। সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী দুলাল কৃষ্ণ জানান, ভূয়া কাগজপত্র দেখিয়ে উক্ত জমি দলিল করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত দলিল লেখকদের অনির্দিষ্টকালের জন্য বহিস্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারকৃত দলিল লেখকরা জানান, সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী দুলাল কৃষ্ণর কথামত উক্ত দলিল লেখা হয়েছে। কিন্তু দায়ভার চাপানো হয়েছে তাদের ঘাড়ে। চিতলমারী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নেয়ামত আলী শেখ জানান, উক্ত দাখিলায় তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।













